মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে প্রতিমার স্বর্ণ চুরি, দম্পতি গ্রেফতার
- আপডেট এর সময় : ০৬:১১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি করা স্বর্ণ কেনার অভিযোগে দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার দম্পতি হলেন–লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায় ওরফে দীপ্ত। অন্য দুজন হলেন দক্ষিণখানের সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিন এবং জাকারিয়া ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে নয়টা থেকে বিকাল চারটার মধ্যে শাহবাগ থানার শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরে কালী প্রতিমার জিহ্বায় থাকা স্বর্ণ চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণের ওজন প্রায় ছয় আনা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। পরে গত রবিবার সকালে রাজধানীর উত্তরখান থানার ডোবাদিয়া এলাকা থেকে লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায়কে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, গ্রেফতারের পর লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায়কে আদালতে পাঠানো হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকার সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে দুই আনা এক রতি চার পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়। রমনা কালী মন্দিরের স্বর্ণ চুরির মামলায় গ্রেফতার দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের চুরির ঘটনায়ও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাকারিয়া ইসলাম নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের লোকনাথ আশ্রমে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন চুরি করে পালানোর সময় ওই দম্পতি এক পুরোহিতের হাতে ধরা পড়েছিলেন বলে জানায় পুলিশ। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেন।
দম্পতির পেশাই চুরি কি না, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক হোসেন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে তিনটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।



















