জাপানে অভিনব ‘ঘুম প্রতিযোগিতা’: দ্রুত ও গভীর ঘুমে পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার!
- আপডেট এর সময় : ০৬:২৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 24
কর্মব্যস্ততা এবং দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাবে ভোগা জাপানে এবার আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা। কে সবচেয়ে কম সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন এবং সবচেয়ে গভীর ও প্রশান্ত ঘুমে আচ্ছন্ন থাকতে পারেন, তা ঘিরেই মূলত এই আয়োজন। এতে অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী।
সোমবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়, ‘ম্যাট রেস’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের ধরন ও মান নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ যন্ত্র পরিয়ে আরামদায়ক গদিতে শুয়ে পড়তে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য রাখা হয় ২০ লাখ ইয়েনের বেশি, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।
প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা এই উদ্যোগের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং এখানকার মানুষ অত্যন্ত কর্মঠ। মৃদু আলোয় সাজানো একটি কক্ষে প্রতিযোগীরা মাথায় পর্যবেক্ষণযন্ত্র লাগিয়ে ঘুমান। তাদের কেউ কেউ বিছানায় নরম খেলনা বুকে জড়িয়েও ঘুমিয়ে পড়েন। নাকামা আরও বলেন, ঘুমকে এ ধরনের একটি আয়োজনে পরিণত করার মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়া এবং ঘুমের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান, যা ওইসিডির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং রাতের ব্যস্ত বিনোদন জীবন জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩২ বছর বয়সী চিসাতো হোন্ডা এএফপিকে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল! ইশ, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম! এটি অত্যন্ত আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা ছিল বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যাচ্ছে এবং ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত হচ্ছে—এই দুটি মূল বিষয় বিবেচনা করেই বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সুইমি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি। এছাড়া, রাজকুমারীর মতো একটি বিছানা কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে আমার।



















