০৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে হাতি-মানুষ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৪:২৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 11

শেরপুরে হাতি-মানুষ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ

শেরপুরের গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্য হাতি ও মানুষের সংঘাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা—নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ১২০টি বন্য হাতি (যার মধ্যে ২৫-৩০টি শাবক রয়েছে) অবস্থান করছে। বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে হাতির পাল প্রায়ই লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে হানা দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হচ্ছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদসহ নানা কারণে হাতিও প্রাণ হারাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলে হাতির আক্রমণে ২৯ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন, ৮২৯টি বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে এবং ৩০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু ক্ষতিপূরণ প্রদান বা সাময়িকভাবে হাতি তাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ২০০৭ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেঘালয় থেকে আসা হাতিগুলোর স্বাভাবিক চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা হাতিকে ঘিরে ধরা বা আঘাত না করে প্রশিক্ষিত ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’-এর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, হাতির চলাচলের পথ ও বনের খাদ্যাভ্যাস পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সীমান্তের বন্ধ গেটগুলো খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শেরপুরের বনাঞ্চলকে হাতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলা এবং গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, কেবল আর্থিক সহায়তা নয়—সীমান্ত নীতি, বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বিত স্থায়ী পরিকল্পনার মাধ্যমেই মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

22 October 2026

শেরপুরে হাতি-মানুষ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

শেরপুরে হাতি-মানুষ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ

আপডেট এর সময় : ০৪:২৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরের গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্য হাতি ও মানুষের সংঘাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা—নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ১২০টি বন্য হাতি (যার মধ্যে ২৫-৩০টি শাবক রয়েছে) অবস্থান করছে। বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে হাতির পাল প্রায়ই লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে হানা দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হচ্ছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদসহ নানা কারণে হাতিও প্রাণ হারাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলে হাতির আক্রমণে ২৯ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন, ৮২৯টি বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে এবং ৩০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু ক্ষতিপূরণ প্রদান বা সাময়িকভাবে হাতি তাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ২০০৭ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেঘালয় থেকে আসা হাতিগুলোর স্বাভাবিক চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা হাতিকে ঘিরে ধরা বা আঘাত না করে প্রশিক্ষিত ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’-এর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, হাতির চলাচলের পথ ও বনের খাদ্যাভ্যাস পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সীমান্তের বন্ধ গেটগুলো খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শেরপুরের বনাঞ্চলকে হাতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলা এবং গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, কেবল আর্থিক সহায়তা নয়—সীমান্ত নীতি, বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বিত স্থায়ী পরিকল্পনার মাধ্যমেই মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

22 October 2026

শেরপুরে হাতি-মানুষ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ