০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজার প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা আনসার-ভিডিপির, ১৩১ ঘটনায় ব্যবস্থা

Din Islam
  • আপডেট এর সময় : ০৪:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় সারা দেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাহিনীটি। এ সময়ে ৪৯ জনকে আটক এবং ১৫টি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আনসার-ভিডিপির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিবের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করেন বাহিনীর সদস্যরা। ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পূজাকেন্দ্রিক ১৩১টি ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিমা ভাঙার চেষ্টা ও ভাঙচুর প্রতিরোধের ২০টি, বিবাদ মীমাংসার ৩৬টি, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধের দুটি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া চুরির ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়। ১৫টি ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বিবিধ সমস্যা-সংক্রান্ত আরও নয়টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

দায়িত্ব পালনকালে আনসার-ভিডিপির চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও অসুস্থ হয়েছেন ১৭ জন।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করেছে আনসার-ভিডিপি। এ অ্যাপের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে তথ্য জানান।

এর মাধ্যমে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, এসআরবি, পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সদস্য নির্বাচন ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে এভিএমআইএস (AVMIS) ও এসটিডিএমএস (STDMS) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বাহিনীর নিজস্ব পর্যবেক্ষণব্যবস্থার আওতায় ছিল।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মহাপরিচালক

আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটি, সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, ‘ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করার এই সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।’

দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পরিকল্পিত জনবল মোতায়েন এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনসহ বড় জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগবে বলে মনে করছে বাহিনীটি।

22 October 2026

দুর্গাপূজার প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা আনসার-ভিডিপির, ১৩১ ঘটনায় ব্যবস্থা

ট্যাগ :

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

দুর্গাপূজার প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা আনসার-ভিডিপির, ১৩১ ঘটনায় ব্যবস্থা

আপডেট এর সময় : ০৪:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় সারা দেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাহিনীটি। এ সময়ে ৪৯ জনকে আটক এবং ১৫টি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আনসার-ভিডিপির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিবের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করেন বাহিনীর সদস্যরা। ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পূজাকেন্দ্রিক ১৩১টি ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিমা ভাঙার চেষ্টা ও ভাঙচুর প্রতিরোধের ২০টি, বিবাদ মীমাংসার ৩৬টি, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধের দুটি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া চুরির ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়। ১৫টি ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বিবিধ সমস্যা-সংক্রান্ত আরও নয়টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

দায়িত্ব পালনকালে আনসার-ভিডিপির চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও অসুস্থ হয়েছেন ১৭ জন।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করেছে আনসার-ভিডিপি। এ অ্যাপের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে তথ্য জানান।

এর মাধ্যমে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, এসআরবি, পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সদস্য নির্বাচন ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে এভিএমআইএস (AVMIS) ও এসটিডিএমএস (STDMS) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বাহিনীর নিজস্ব পর্যবেক্ষণব্যবস্থার আওতায় ছিল।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মহাপরিচালক

আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটি, সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, ‘ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করার এই সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।’

দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পরিকল্পিত জনবল মোতায়েন এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনসহ বড় জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগবে বলে মনে করছে বাহিনীটি।

22 October 2026

দুর্গাপূজার প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা আনসার-ভিডিপির, ১৩১ ঘটনায় ব্যবস্থা