রাজশাহী চিনিকল: হাজার কোটি টাকার দায় ও আখ সংকটের মাঝে নতুন মৌসুমের সূচনা
- আপডেট এর সময় : ০৫:২১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 7
পুঞ্জীভূত ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকার দায় এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে চিনি বিক্রির তীব্র লোকসান মাথায় নিয়েই আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে আবারও উৎপাদনে যাচ্ছে রাজশাহী চিনিকল। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৬৫ সালে চালু হওয়া এই চিনিকলটি আশির দশকের শেষভাগ থেকে ধারাবাহিকভাবে মন্দার মুখে পড়ে। বর্তমানে মিলটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার টন হলেও বহু বছর ধরে তা অর্জিত হচ্ছে না। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭০ কোটি টাকা লোকসানসহ ক্রমান্বয়ে এর দেনার পরিমাণ বহুগুণে বেড়েছে।
চলতি মৌসুমে মিল কর্তৃপক্ষ ৬০ দিনে ৭০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর জন্য চুক্তিবদ্ধ ৩,৯০০ জন চাষির পাশাপাশি সাধারণ চাষিদের থেকেও আখ সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে এবং আখের দাম মণপ্রতি ১১ টাকা বাড়িয়ে ২৬০ টাকা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় চাষিরা বকেয়া অর্থ পেতে বিলম্ব, তুলনামূলক কম লাভ এবং হয়রানির কারণে আখ চাষ ছেড়ে লাভজনক সবজি চাষে ঝুঁকছেন অথবা নিজস্ব মাড়াই যন্ত্রে গুড় তৈরি করছেন। ফলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও কাঁচামালের তীব্র সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাড়াই বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বিশাল পার্থক্য। পুরোনো যন্ত্রপাতি, পূর্ণ সক্ষমতার অব্যবহার এবং ১,০০০-এর বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর সারা বছরের বেতন-ভাতার কারণে চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এই চিনি বিক্রি করতে হয় মাত্র ১২৫ টাকায়, যার ফলে প্রতি কেজিতে ১৭৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এক দশকের ব্যবধানে রাজশাহী অঞ্চলে আখ চাষের জমি ৪০,৮৬৭ হেক্টর থেকে কমে ১৯,৩৪০ হেক্টরে নেমে এসেছে, যা চিনিকলটির জন্য কাঁচামাল সংকট আরও ঘনীভূত করেছে। যদিও কর্তৃপক্ষের একাংশের মতে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে এটিকে কেবল ‘নিট লোকসান’ না বলে ‘পুঞ্জীভূত দায়’ বলা অধিক যুক্তিসংগত, তবুও উৎপাদন ব্যবস্থার কার্যকর আধুনিকায়ন ও আখের সরবরাহ নিশ্চিত না করে কেবল মাড়াই শুরু করা চিনিকলটির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে কতটা সুগম করবে—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।



















