টানা শ্রমিক আন্দোলনে পোশাক খাতে ৮৫০ কোটি টাকার রপ্তানি ব্যাহত: মঙ্গলবার থেকে সব কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত
- আপডেট এর সময় : ০৪:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 17
টানা শ্রমিক আন্দোলনে পোশাক খাতে ৮৫০ কোটি টাকার রপ্তানি ব্যাহত: মঙ্গলবার থেকে সব কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত
টানা শ্রমিক আন্দোলন ও সহিংসতার কারণে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত রবিবার ও সোমবার ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার (৭ কোটি মার্কিন ডলার) রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ৬৯০টি কারখানা বন্ধ থাকায় এক দিনেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা (৪ কোটি ডলার)। এর আগের দিন রবিবার ৫২৯টি কারখানা বন্ধ থাকায় আরও ৩ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাগুলোর প্রতিদিনের নির্দিষ্ট পরিচালন ব্যয় (ফিক্সড খরচ) বহন করতে হচ্ছে, যা মালিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, কারখানা বন্ধ থাকলেও তাঁদের দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালন বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার ডলার ব্যয় হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করিয়ে উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে হবে বা চড়া খরচে বিমানে পণ্য পাঠাতে হবে, যা উৎপাদন ব্যয় বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা হারানো, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চাপে থাকা এই খাতে চলমান সহিংসতা কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার থেকে সারা দেশের সব পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিএমইএ। তবে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে এখনো আতঙ্ক কাটেনি উদ্যোক্তাদের। তাঁরা কারখানা চালু করার আগে শ্রমিকদের যাতায়াত ও কর্মস্থলের কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সহিংসতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উসকানি বা শ্রমিক নেতাদের ভূমিকা আছে কি না, তা গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।



















