অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশ: রাজস্ব কর্মকর্তা আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়
- আপডেট এর সময় : ০৬:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 122
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত দেড় দশকে তিনি ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
ডজনখানেক অভিযোগ ও ভয়াবহ অনিয়ম অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি দিতে সহায়তা, অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের ফাইল আটকে রাখা, এবং ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া ইনভয়েস অনুমোদনের অন্তত ডজনখানেক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার বিনিময়ে তাদের ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট আদায়ে তিনি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব ফাঁকির তদন্তে নামলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন সমঝোতায় লিপ্ত হতেন আজাদ। ‘ম্যানেজ’ না হলে ফাইল আটকে হয়রানি করা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। তার বিরুদ্ধে অবৈধ পথে অর্জিত বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে সম্পত্তি কেনারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর এসব অভিযোগের ফিরিস্তি এখন প্রকাশ্যে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, “আবুল কালাম আজাদের একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছিল। নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে গেলেও তার অবৈধ চাহিদা পূরণ না করলে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হতো। ভ্যাট অফিসের এই কর্মকর্তাকে ঘুষ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর পাওয়া ছিল অসম্ভব।”
তদন্ত ও শাস্তির দাবি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিগত সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। শুধু বিভাগীয় তদন্ত নয়, বরং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করা উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



















