শাহজালালে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: আড়াই কোটি টাকার চালানে শুল্ক ফাঁকির বিপুল চেষ্টা নস্যাৎ
- আপডেট এর সময় : ০৫:২১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 76
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) অভিযানে এক আমদানিকারকের দুটি পৃথক চালানে বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাব, আইপ্যাড ও গাড়ির যন্ত্রাংশে মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Sardar Global Trade (BIN: 009113645-0111) এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল FAHIM 5 STAR LTD। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চালান দুটির খালাস স্থগিত করা হয় এবং ২৩ আগস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
পরীক্ষায় প্রথম চালানে (AWB No. 997-66890751, B/E No. 821186, Date: 13.08.2026) ঘোষিত মূল্য (D. Value) মাত্র ৩,৫০০ মার্কিন ডলার দেখালেও সংশোধিত শুল্কায়ন মূল্য (A. Value) দাঁড়ায় ১০৩,৫২৭ মার্কিন ডলার (১,২৭,৮৫,৫৮৪ টাকা)। এ চালানে ৭৪০টি ল্যাপটপ এবং ৬০টি ট্যাব ও আইপ্যাড পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৪৩টি ল্যাপটপ ছিল ঘোষণার অতিরিক্ত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় চালানে (AWB No. 997-60500451, B/E No. 821108, Date: 13.08.2026) ২,০০০ মার্কিন ডলার ঘোষিত মূল্যের বিপরীতে শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৪,২৫৯ মার্কিন ডলার (৭৯,৩৫,৯৮৬ টাকা)। এতে পাওয়া মোট ৪২৭টি ল্যাপটপ এবং ৪০টি ট্যাব ও আইপ্যাডের মধ্যে ৩৯টি ল্যাপটপ অতিরিক্ত ছিল।
দুই চালান মিলিয়ে সর্বমোট ৫,৫০০ মার্কিন ডলার ঘোষিত মূল্যের বিপরীতে চূড়ান্ত শুল্কায়ন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬৭,৭৮৬ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২.০৭ কোটি টাকা, যা ঘোষিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৩০.৫ গুণ বেশি। কায়িক পরীক্ষায় ১,১৬৭টি ল্যাপটপ ও ১০০টি ট্যাব/আইপ্যাডের একটি বড় অংশ বাহ্যিক দিক থেকে ব্যবহৃত (Used) বলে প্রতীয়মান হয়েছে, যা প্রচলিত আমদানি নীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া Capacitor, Rubber Seal O-ring ইত্যাদি নামে ঘোষিত পণ্যগুলো মূলত Car Parts হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় HS Code পরিবর্তন করা হয়েছে। কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং আমদানি নীতি আদেশের বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


















