ডিজিটাল অপ্রতুলতা ও জনবল সংকট নিয়ে লক্ষ্য পূরণের চ্যালেঞ্জে এনবিআর
- আপডেট এর সময় : ০২:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 35
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায়ের বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে। গত অর্থবছরে অর্জিত ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা রাজস্বের ওপর ভিত্তি করে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য আদায়ের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র জনবল সংকট এবং সমন্বয়হীন ডিজিটাল ব্যবস্থা। সম্প্রতি সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এনবিআরের উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এনবিআরের আয়কর বিভাগেই অনুমোদিত ১২ হাজার ৭৬৪টি পদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৫২টি পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ। জনবল ঘাটতির পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও প্রকট। ই-টিআইএন, ই-রিটার্ন, ই-টিডিএস, ভ্যাট অনলাইন কিংবা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের মতো পৃথক ব্যবস্থা চালু থাকলেও এগুলোর মধ্যে আন্তঃসমন্বয় নেই। ফলে একজন করদাতার আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে দেখার সুযোগ তৈরি হয়নি এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থাপনাও অধরা রয়ে গেছে।
এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাজস্ব বৃদ্ধি করতে প্রথাগত জরিপের বদলে ডিজিটাল সার্ভে, ভৌগোলিক তথ্য, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ব্যক্তির সার্বিক আর্থিক কার্যক্রমকে একসূত্রে আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং এনবিআর চেয়ারম্যানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। বৈঠকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়িয়ে বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর তাগিদ দেওয়া হয় এবং লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরকে ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

















