সারা বছর নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত
- আপডেট এর সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
রমজান মাসসহ সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এই ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেবল রমজান কেন্দ্রিক নয়, বরং সারা বছরই বাজারে পণ্যের সহনীয় দাম ও স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যদি কৃত্রিমভাবে বা অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ায় কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার কারণে কিছু শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের বাধা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাজার কিছুটা প্রভাবিত হলেও শীতের মৌসুমে নতুন সবজি বাজারে এলে দ্রুতই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। পণ্যের সামান্য দরপতন বা বৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের মনে অহেতুক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে মনিটরিং বাড়িয়ে ভোক্তাদের আস্থা বজায় রাখা হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামো পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে সরকার।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পেশ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক। তথ্য অনুযায়ী, দেশে মসুর ডালের মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেখানে ৪২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টনে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানি গত বছরের দুই লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে চলতি বছরের একই সময়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টনে। এছাড়া বছরে প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার চিনির বাজার এবং সার্বিক পাইপলাইন পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক রয়েছে।
ভবিষ্যতে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ট্রেসেবিলিটি’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রথম পর্যায়ে ডিম ও পোল্ট্রি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে একদম উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ তদারকি করা সম্ভব হবে। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম সহ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাজার স্থিতিশীল রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।




















