০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০১:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 31

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। মঙ্গলবার নৌপরিবহন, রেলপথ ও সেতু বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর এই দাবি জানান। চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়, প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা করে ভাড়া বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যা বাস্তবায়িত হলে দূরত্বভেদে ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫২ পয়সায় স্থলে ৪ টাকা ২ পয়সা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সরকার সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করায় জ্বালানি খরচ প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো সম্পূর্ণ ডিজেল ও মবিলচালিত, তাই এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ, বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ এবং রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য নানা প্রশাসনিক ও রেজিস্ট্রেশন ফি একযোগে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বাইরে শ্রমিকদের মজুরি, আয়কর, ভ্যাট এবং লঞ্চ নির্মাণ ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান পরিচালনায় মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে লঞ্চ মালিকরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির ফলে যাত্রীরা নদীপথের চেয়ে সড়কপথে যাতায়াতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে লঞ্চে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ভাড়া পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান তারা। মালিকদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রস্তাবিত হারে লঞ্চভাড়া বৃদ্ধি করা না হলে অবিলম্বে ডিজেলের এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে।

29 October 2026

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

আপডেট এর সময় : ০১:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। মঙ্গলবার নৌপরিবহন, রেলপথ ও সেতু বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর এই দাবি জানান। চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়, প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা করে ভাড়া বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যা বাস্তবায়িত হলে দূরত্বভেদে ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫২ পয়সায় স্থলে ৪ টাকা ২ পয়সা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সরকার সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করায় জ্বালানি খরচ প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো সম্পূর্ণ ডিজেল ও মবিলচালিত, তাই এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ, বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ এবং রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য নানা প্রশাসনিক ও রেজিস্ট্রেশন ফি একযোগে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বাইরে শ্রমিকদের মজুরি, আয়কর, ভ্যাট এবং লঞ্চ নির্মাণ ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান পরিচালনায় মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে লঞ্চ মালিকরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির ফলে যাত্রীরা নদীপথের চেয়ে সড়কপথে যাতায়াতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে লঞ্চে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ভাড়া পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান তারা। মালিকদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রস্তাবিত হারে লঞ্চভাড়া বৃদ্ধি করা না হলে অবিলম্বে ডিজেলের এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে।

29 October 2026

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের