০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কোচিং ব্যবসা: শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাথে বৈষম্যের অভিযোগ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ১১:১৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কোচিং ব্যবসা: শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাথে বৈষম্যের অভিযোগ

কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্কুলের কক্ষ দখল করে অবাধে চলছে প্রাইভেট বাণিজ্য। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তো বটেই, বহিরাগত শিক্ষক এনেও নিয়মিত কোচিং চালানো হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলা এই বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। শুধু তা-ই নয়, প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দেওয়ার মতো গুরুতর বৈষম্যের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৬টায় সরেজমিনে হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছালে দেখা যায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। সূর্য ওঠার আগেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ গুলোতে ভিড় জমিয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। সেখানে পুরোদমে পাঠদান করাচ্ছেন গণিত শিক্ষক নাজমুল হাসান ও ইংরেজি শিক্ষকসহ কয়েকজন। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন একজন বহিরাগত শিক্ষকও।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বিষয় ও শিক্ষকভেদে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা। নাম গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক জানান, স্কুলে এক ধরনের জিম্মিদশা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যারা প্রাইভেট পড়ে, পরীক্ষার খাতায় কেবল তাদেরই ভালো নম্বর মেলে। আর যারা পড়ে না, শ্রেণিকক্ষে তাদের একরকম অবহেলা করা হয়। বাধ্য হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও ভালো ফলাফলের কথা ভেবে চড়া ফি দিয়ে কোচিংয়ে পাঠাতে হচ্ছে তাদের।

অবৈধভাবে শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সকাল ৮টা পর্যন্ত রুমে প্রাইভেট পড়ানোর মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কালুখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী এজাজ কায়সার জানান, সরকারি নিয়ম ভেঙে প্রতিষ্ঠানের কক্ষ বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রাইভেট বা কোচিং করানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে এর সাথে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

12 October 2026

হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কোচিং ব্যবসা: শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাথে বৈষম্যের অভিযোগ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কোচিং ব্যবসা: শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাথে বৈষম্যের অভিযোগ

আপডেট এর সময় : ১১:১৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্কুলের কক্ষ দখল করে অবাধে চলছে প্রাইভেট বাণিজ্য। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তো বটেই, বহিরাগত শিক্ষক এনেও নিয়মিত কোচিং চালানো হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলা এই বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। শুধু তা-ই নয়, প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দেওয়ার মতো গুরুতর বৈষম্যের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৬টায় সরেজমিনে হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছালে দেখা যায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। সূর্য ওঠার আগেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ গুলোতে ভিড় জমিয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। সেখানে পুরোদমে পাঠদান করাচ্ছেন গণিত শিক্ষক নাজমুল হাসান ও ইংরেজি শিক্ষকসহ কয়েকজন। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন একজন বহিরাগত শিক্ষকও।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বিষয় ও শিক্ষকভেদে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা। নাম গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক জানান, স্কুলে এক ধরনের জিম্মিদশা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যারা প্রাইভেট পড়ে, পরীক্ষার খাতায় কেবল তাদেরই ভালো নম্বর মেলে। আর যারা পড়ে না, শ্রেণিকক্ষে তাদের একরকম অবহেলা করা হয়। বাধ্য হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও ভালো ফলাফলের কথা ভেবে চড়া ফি দিয়ে কোচিংয়ে পাঠাতে হচ্ছে তাদের।

অবৈধভাবে শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সকাল ৮টা পর্যন্ত রুমে প্রাইভেট পড়ানোর মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কালুখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী এজাজ কায়সার জানান, সরকারি নিয়ম ভেঙে প্রতিষ্ঠানের কক্ষ বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রাইভেট বা কোচিং করানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে এর সাথে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

12 October 2026

হাঁড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কোচিং ব্যবসা: শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাথে বৈষম্যের অভিযোগ