১১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৩:০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 21

বিএনপির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা:
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে নতুন করে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে অর্জিত সফল প্রত্যাবাসনের ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০১৭ সালে সংকট তৈরির সূচনালগ্নেও বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে মানবিক আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ:
বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ৩০ হাজার নতুন শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ দিন দিন কমছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে ত্রাণনির্ভর সহায়তার মধ্যে আটকে না থেকে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন শুরু করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্ব:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সেই তুলনায় পূর্বের সফল প্রত্যাবাসনগুলোতে জাতিসংঘের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাই বর্তমান সরকার শুধু দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ান (ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন) এবং তুরস্কসহ প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করছে। এছাড়া মিয়ানমারের রাখাইনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বর্তমান মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অনাফিসিয়ালি ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব:
সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট উল্লেখ করেন—রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা, সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের জন্য একটি ৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও চীন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথেও এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন।

2 November 2026

বিএনপির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

বিএনপির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা

আপডেট এর সময় : ০৩:০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা:
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে নতুন করে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে অর্জিত সফল প্রত্যাবাসনের ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০১৭ সালে সংকট তৈরির সূচনালগ্নেও বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে মানবিক আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ:
বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ৩০ হাজার নতুন শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ দিন দিন কমছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে ত্রাণনির্ভর সহায়তার মধ্যে আটকে না থেকে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন শুরু করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্ব:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সেই তুলনায় পূর্বের সফল প্রত্যাবাসনগুলোতে জাতিসংঘের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাই বর্তমান সরকার শুধু দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ান (ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন) এবং তুরস্কসহ প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করছে। এছাড়া মিয়ানমারের রাখাইনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বর্তমান মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অনাফিসিয়ালি ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব:
সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট উল্লেখ করেন—রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা, সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের জন্য একটি ৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও চীন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথেও এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন।

2 November 2026

বিএনপির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা