জমির উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারির নতুন নিয়ম: যা জানা জরুরি
- আপডেট এর সময় : ০৬:০১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির নামজারি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করতে হলে মৃত ব্যক্তির সকল আইনি ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেক ওয়ারিশকে তাঁদের আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী নতুন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তবে সুবিধাজনক বিষয় হলো, ওয়ারিশদের মধ্যে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাটোয়ারা বা ভাগ করা না থাকলেও যৌথ নামজারির জন্য আবেদন করা যাবে; শুধু নিবন্ধিত বণ্টননামা না থাকার অজুহাতে এই আবেদন বাতিল করা যাবে না। তবে কেউ যদি নিজের অংশ আলাদা করে পৃথক খতিয়ান বা কাগজ করতে চান, তবে অবশ্যই নিবন্ধিত বণ্টননামা থাকতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর) কাছ থেকে সংগ্রহ করা নির্ভুল ‘ওয়ারিশ সনদ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নামজারি আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যুসনদ, আগের খতিয়ানের কপি, জমির সঠিক বিবরণ এবং পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে এই সেবা পেতে পারেন, সেজন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট (land.gov.bd)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে ই-নামজারি আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে ট্র্যাকিং নম্বরের মাধ্যমে অনলাইনে নিয়মিত আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সঠিক সময়ে নামজারি সম্পন্ন না করলে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর বা মালিকানা যাচাইয়ের সময় বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল নামজারিই জমির চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র দলিল নয়; এর পাশাপাশি মূল দলিল, ওয়ারিশের কাগজপত্র এবং জমির বাস্তব দখলও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘমেয়াদি আইনি ঝামেলা এড়াতে সময়মতো নামজারি সম্পন্ন করা এবং নতুন এই নিয়মের সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।




















