নরসিংদীতে ১২ দিনে ৮ জন ধর্ষণের শিকার; বাড়ছে আতঙ্ক
- আপডেট এর সময় : ০৪:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
- / 205
নরসিংদীতে একের পর একের এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। নরসিংদী ১০০ শয্যা সদর হাসপাতালের আরএমও’র দেয়া তথ্য মতে মার্চের ১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের অধিকাংশই দলবদ্ধধর্ষণে শিকার, কেউ পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিতা, কেউ বা আশেপাশের পরিচিত ও অপরিচিত মানুষদের দ্বারা নির্যাতিত।এরমধ্যে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৫০ ঊর্ধ্ব নারীও রয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মাধবদীতে। এক গর্ভবতী নারীকে তিনদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করে কয়েকজন। ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী জামিনের ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে পাঁচদোনা এলাকায় একটি মার্কেটের কক্ষে আটকে ইকবাল, পাপ্পুসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন মিলে টানা তিনদিন পাশবিক নির্যাতন চালায় ওই নারী উপর। এরপর তিনি বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করলে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। কারো প্রকাশ পাচ্ছে, কারোটা গোপন থাকছে। ভয়-ভীতি, পারিবারিক মানসম্মান, সামাজিকতা রক্ষা, পারিপার্শ্বিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে থানায় যাওয়ার সাহস পাইনি। বিচারের জন্য দাঁড়াতে পারেনি। এ-র আগেই ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয় ধর্ষণের ঘটনাগুলিকে। আর সেই সুযোহে ধর্ষক হয়ে ওঠে আরও বেপরোয়। নতুন করে তার লালশার শিকার হন নিরিহ অন্য কেউ।
প্রশাসনিক দুর্বলতা, আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা প্রকট হলে অপরাধীরা বার বার এই ধরনের ন্যাক্কারজনক অপরাধ সাহস পায়, সেই প্রশ্ন তুলে নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। সরকার কঠোর হলে অপরাধীরা অপরাধ করার সাহস পায় না।
নারী অধিকার আন্দোলন কর্মী মাহবুবুল হোসেন মামুন মনে করেন, নারীর প্রতি ভোগ্যপণ্য সুলভ আচরণের কারণে বাড়ছে ধর্ষণের মতো অপরাধ। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে অপরাধীরা নেক্কারজনক এই অপরাধ করতে দ্বীধা বোধ করেন না বলেও মনে করেন তিনি।
এই নারী অধিকার কর্মী আরও বলেন, বিকৃত মন মানসিকতার, পারিবারিক দিক্ষার অভাব এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার জন্যই প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের মতে, ধর্ষকের কঠোর শাস্তি প্রকাশ্যে বাস্তবায়ন হলে জঘন্য এই অপরাধ কমে আসবে। আইনের দুর্বলতার সুযোগে ধর্ষকরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাধ করেই চলেছে বলে মনে করছেন তারা। এজন্য সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত বাস্তবায়নে নতুন আইন করার পরামর্শও দেন অনেকে।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল হান্নানের দাবি সর্বাত্মকভাবে ধর্ষণের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে জেলা পুলিশ। একইসেঙ্গ অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তারা। তিনি আরও বলেন, ধর্ষন রোধে শুধু পুলিশ একা ভুমিকা রাখলে হবে না। এজন্য প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।




















