০১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাগৃকের প্রধান কার্যালয় যেন পিয়ন তাজুর স্থায়ী ঠিকানা

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৮:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 282

জাকির পাটোয়ারী: সিন্ডিকেটের দখলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। শুনতে অবাক লাগলেও, দীর্ঘ দিন ধরে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো সংস্থাটি। যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বদলি, পদন্নতি, প্লট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজই এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়।
এই সিন্ডিকেটে সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জড়িতের তালিকায় রয়েছে অফিসের পিওনের নামও। মাঠ পর্যায়ে অফিস সহায়ক, অফিস সহকারি,ওয়াকচার্জ কর্মচারী, উপ সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার থেকে শুরু করে প্রকৌশলী পর্যন্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির দালালী করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদেরই একজন জাগৃকের প্রধান কার্যালয়ের পিয়ন তাজু । ক্ষতবিক্ষত এই সংস্থাটি পিয়ন তাজুকে যতবারই চেয়ারম্যান দপ্তর ও প্রধান কার্যালয় থেকে বদলি করেছে, ততবারই ফিরে এসছেন তাজু ।
অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিময়ে বার বার তাজু চেয়ারম্যান-প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে চলে আসেন। চাকরির জীবনে বেশিরভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে। যে কারণে জাগৃক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য বনে গেছেন তিনি।
জাগৃকের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পদবী পিয়ন হলেও তাজুর ক্ষমতা ব্যপক। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা জাগৃকের এক প্রকার নিয়ন্ত্রক। গত বছর ৫ই আগষ্টের পর তাজুর সিন্ডিকেটের অনেককেই ঢাকার বাইরে বদলি করেন জাগৃকের চেয়ারম্যান। তবে সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসাব সহকারি মোঃ মোস্তফা হোসেন, নকশাকার মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও তাজুসহ বেশকজন এখনো রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালযয়ে। অভিযোগ রয়েছে, উপর মহলের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে একই কর্মস্থলে বীরদর্পেই রয়েছেন তাজুসহ সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যরা। আর তাদের মদদ দাতা হিসেবে বার বার সামনে আসছে গৃহায়নের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) আলমগীর হুছাইনের নাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা মিরপুরস্থ সেকশন-২ ব্লক-বি, রোড-১, প্লট-৩ এর উপর নির্মিত ৭ম তলা ৬/বি ভবনে ১২২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিনের নামে কিনেছেন জাগৃকের পিয়ন তাজু। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। এছাড়া আরও বেশকিছু জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে তাজুর বিরুদ্ধে।
সল্প বেতনে চাকরি করে কিভাবে রাজধানীর বুকে ফ্ল্যাট কিনেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাজু দাবি করেন, তার স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে এই ফ্ল্যাটটি কিনেছেন। তবে সেই স্বর্ণালঙ্কার কেনার উৎস নিয়ে কোন কথা বলেননি তিনি। এসময় তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আমি কি কারো টাকা মেরেছি। দীর্ঘদিন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এনিয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেন।

17 September 2026

জাগৃকের প্রধান কার্যালয় যেন পিয়ন তাজুর স্থায়ী ঠিকানা

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

জাগৃকের প্রধান কার্যালয় যেন পিয়ন তাজুর স্থায়ী ঠিকানা

আপডেট এর সময় : ০৮:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাকির পাটোয়ারী: সিন্ডিকেটের দখলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। শুনতে অবাক লাগলেও, দীর্ঘ দিন ধরে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো সংস্থাটি। যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বদলি, পদন্নতি, প্লট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজই এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়।
এই সিন্ডিকেটে সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জড়িতের তালিকায় রয়েছে অফিসের পিওনের নামও। মাঠ পর্যায়ে অফিস সহায়ক, অফিস সহকারি,ওয়াকচার্জ কর্মচারী, উপ সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার থেকে শুরু করে প্রকৌশলী পর্যন্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির দালালী করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদেরই একজন জাগৃকের প্রধান কার্যালয়ের পিয়ন তাজু । ক্ষতবিক্ষত এই সংস্থাটি পিয়ন তাজুকে যতবারই চেয়ারম্যান দপ্তর ও প্রধান কার্যালয় থেকে বদলি করেছে, ততবারই ফিরে এসছেন তাজু ।
অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিময়ে বার বার তাজু চেয়ারম্যান-প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে চলে আসেন। চাকরির জীবনে বেশিরভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে। যে কারণে জাগৃক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য বনে গেছেন তিনি।
জাগৃকের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পদবী পিয়ন হলেও তাজুর ক্ষমতা ব্যপক। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা জাগৃকের এক প্রকার নিয়ন্ত্রক। গত বছর ৫ই আগষ্টের পর তাজুর সিন্ডিকেটের অনেককেই ঢাকার বাইরে বদলি করেন জাগৃকের চেয়ারম্যান। তবে সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসাব সহকারি মোঃ মোস্তফা হোসেন, নকশাকার মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও তাজুসহ বেশকজন এখনো রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালযয়ে। অভিযোগ রয়েছে, উপর মহলের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে একই কর্মস্থলে বীরদর্পেই রয়েছেন তাজুসহ সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যরা। আর তাদের মদদ দাতা হিসেবে বার বার সামনে আসছে গৃহায়নের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) আলমগীর হুছাইনের নাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা মিরপুরস্থ সেকশন-২ ব্লক-বি, রোড-১, প্লট-৩ এর উপর নির্মিত ৭ম তলা ৬/বি ভবনে ১২২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিনের নামে কিনেছেন জাগৃকের পিয়ন তাজু। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। এছাড়া আরও বেশকিছু জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে তাজুর বিরুদ্ধে।
সল্প বেতনে চাকরি করে কিভাবে রাজধানীর বুকে ফ্ল্যাট কিনেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাজু দাবি করেন, তার স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে এই ফ্ল্যাটটি কিনেছেন। তবে সেই স্বর্ণালঙ্কার কেনার উৎস নিয়ে কোন কথা বলেননি তিনি। এসময় তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আমি কি কারো টাকা মেরেছি। দীর্ঘদিন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এনিয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেন।

17 September 2026

জাগৃকের প্রধান কার্যালয় যেন পিয়ন তাজুর স্থায়ী ঠিকানা