০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলাহাট কলেজে তিন বছর ধরে পাসের হার শূন্য, উদ্বেগে অভিভাবকরা

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০১:২৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 11

ভোলাহাট কলেজে তিন বছর ধরে পাসের হার শূন্য, উদ্বেগে অভিভাবকরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে টানা তিন বছর ধরে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
 ধারাবাহিক এ ব্যর্থতায় কলেজটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ভোলাহাট কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে চলতি বছরও কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
এর আগের বছরগুলোর ফলাফলও ছিল হতাশাজনক। ২০২৩ সালে কলেজটির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজনই অকৃতকার্য হন। ওই সময় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য কলেজটিতে কর্মরত ছিলেন ১৭ জন শিক্ষক।
 এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ধারাবাহিক এই ফল বিপর্যয় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, একসময় ভোলাহাট কলেজের সুনাম থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফলাফলের এমন অবনতি অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁদের প্রশ্ন, কেন বছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না, আর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
অভিভাবকরা বলেন, একটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করাটা শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো ভোলাহাট উপজেলার জন্যই বিব্রতকর। শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভোলাহাট কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানা ফল বিপর্যয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য কলেজগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে।
টানা তিন বছরের ফল বিপর্যয়ে ভোলাহাট কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
4 November 2026

ভোলাহাট কলেজে তিন বছর ধরে পাসের হার শূন্য, উদ্বেগে অভিভাবকরা

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

ভোলাহাট কলেজে তিন বছর ধরে পাসের হার শূন্য, উদ্বেগে অভিভাবকরা

আপডেট এর সময় : ০১:২৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে টানা তিন বছর ধরে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
 ধারাবাহিক এ ব্যর্থতায় কলেজটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ভোলাহাট কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে চলতি বছরও কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
এর আগের বছরগুলোর ফলাফলও ছিল হতাশাজনক। ২০২৩ সালে কলেজটির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজনই অকৃতকার্য হন। ওই সময় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য কলেজটিতে কর্মরত ছিলেন ১৭ জন শিক্ষক।
 এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ধারাবাহিক এই ফল বিপর্যয় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, একসময় ভোলাহাট কলেজের সুনাম থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফলাফলের এমন অবনতি অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁদের প্রশ্ন, কেন বছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না, আর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
অভিভাবকরা বলেন, একটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করাটা শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো ভোলাহাট উপজেলার জন্যই বিব্রতকর। শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভোলাহাট কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানা ফল বিপর্যয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য কলেজগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে।
টানা তিন বছরের ফল বিপর্যয়ে ভোলাহাট কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
4 November 2026

ভোলাহাট কলেজে তিন বছর ধরে পাসের হার শূন্য, উদ্বেগে অভিভাবকরা