গাংনীতে তহশিলদার হুমায়ুনের মাসিক বাড়তি আয় লাখ টাকা। জিম্মি সাধারণ ভূমি মালিকরা
- আপডেট এর সময় : ১২:১৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 19
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাজনা পরিশোধ, নতুন হোল্ডিং খোলা, নামজারি, পর্চা উত্তোলন এমনকি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নামেও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি নির্ধারিত ফি দেওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখা হয় এবং দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। এভাবে প্রতি মাসে তিনি লাখ টাকারও বেশি অবৈধ অর্থ আয় করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি আদায় করা টাকার একটি অংশ ‘ওপর মহলে’ দিতে হয় বলেও তিনি কয়েকজনের কাছে দাবি করেছেন।
অফিসে নিয়মিত না থাকা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। জুগিন্দা গ্রামের আব্দুল করিম, গাড়াডোব গ্রামের হামিদুল ইসলাম ও ধানখোলা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনের সময় তাকে অফিসে পাওয়া যায় না, ফোলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া আড়পাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তহসিলদারকে খুশি করলে খাজনা কমে যায়, আর না করলে খাজনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ কর্মস্থল ধানখোলা ইউনিয়নে না থেকে বাইরে সদর এলাকায় বসবাস করেন এবং প্রতিবাদের চেষ্টা করলে সেবাগ্রহীতাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তহসিলদার হুমায়ুন কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমি অফিসের এই অনিয়ম ও দুর্নীতি সাধারণ মানুষের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা। তারা এই ঘুষ-দুর্নীতি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।


















