প্রবাসীদের এনআইডি বাধ্যবাধকতা শিথিল ও ব্যাংকিং সহজীকরণের উদ্যোগ
- আপডেট এর সময় : ০৪:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 8
পাসপোর্টের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব
গত সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যাংকাররা জানান, অনেক প্রবাসীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় তাঁরা ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা দূর করতে এনআইডির বাধ্যবাধকতা শিথিল করে কেবল পাসপোর্টের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের ‘রোশন ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট’-এর মতো ডিজিটাল ও ঝামেলামুক্ত উপায়ে গ্রাহক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঋণসীমা পুনর্বিবেচনা ও ডলার ব্যবস্থাপনা
বৈঠকে প্রবাসীদের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণের সীমা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনার দাবি জানান ব্যাংক নির্বাহীরা। এছাড়া বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে হঠাৎ চাপ এড়াতে আগাম চাহিদার ভিত্তিতে ডলারের মজুত ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলোর প্রস্তাব বিবেচনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন সার্কুলার জারি করতে পারে।
এনআরটিএ হিসাবের সুবিধা ও বিনিয়োগের সুযোগ
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল কারেন্ট, সেভিংস ও ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সাহায্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থ, সুদ, মুনাফা বা শেয়ার বিনিয়োগের রিটার্ন এসব হিসাবে জমা রাখতে পারেন। এ অর্থ এবং অর্জিত মুনাফা অবাধে বিদেশে ফেরত নেওয়া যায়।
দেশীয় অর্থনীতিতে তহবিলের ব্যবহারের নিয়ম
এসব হিসাবে জমা থাকা তহবিল বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘টাইপ-এ’ (শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন) শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো পরিচালন ব্যয় মেটাতে টাকায় ঋণ দেওয়া যায়, যা রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধযোগ্য। এছাড়া, কৃষি, বনায়ন ও আবাসন খাত ব্যতীত ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এসব আমানতের বিপরীতে প্রবাসী বা তাঁদের মনোনীত সুবিধাভোগীদেরও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।



















