- আপডেট এর সময় : ০২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫
- / 182
বরিশাল-৪ আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের প্রভাব খাটিয়ে চাকরির দেড় বছরে ৩০ লাখ টাকার প্লট পান দেবাইন চন্দ্র সরকার
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ১৫৩ তম বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে ০৬ (ছয়) জন প্রার্থীকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশল‘র শূন্য পদে নিয়োগ প্রদান করা করে। এই ছয় জনের মধ্যে একজন দেবাইন চন্দ্র সরকার। ১ মার্চ ২০১৬ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ রাজশাহী ডিভিশনে যোগদান করেন তিনি। এর ৪ মাসের মাথায় প্লটের জন্য আবেদন করেন তিনি। ১০/০৭/২০১৭ ইং তারিখে আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ১৯০তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত নং-০১ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, প্রধান কার্যালয় স্মারক নং- জাগুক/ভূসব্য/রাজশাহী তেরখাদিয়া পলিসি নথি/২০১৮/১০১৭৮, ১৮/০৯/২০১৮ ইং তারিখে রাজশাহীর তেরখাদিয়ায় সাইট এন্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পের আবাসিক প্লট নং- ১৬, ৯৯ বছরের জন্য লীজ দেওয়া হয়। যার আয়তন কম/বেশি ৫.০০ (পাঁচ) কাঠা এবং সাময়িক ভাবে প্রতি কাঠা জমির মূল্য ৫,৭৫,০০০/- টাকা হিসাবে প্লটের সর্বমোট মূল্য ২৮,৭৫,০০০/- টাকা। বরাদ্দের নীতিমালার বলা আছে- কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের (পদায়ন/প্রেষণে নিয়োজিত) ন্যূনতম ৫ বছরের চাকরিকাল পূর্ণ হতে হবে। জাগৃকের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরি স্থায়ী হতে হবে। কিন্তু চাকরির দেড় বছরে মাথায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়ে কিভাবে এই প্লট বরাদ্দ পেলেন দেবাইন চন্দ্র সরকার, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বরাদ্দ নিয়ে আবার তা বিক্রিও করে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে নিজ দপ্তরে নীতিমালা ভেঙে নিজের নামে কোটি টাকার এই প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বরিশাল-৪ আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের প্রভাব খাটিয়ে একক আধিপত্ত ছিলো তার। সাবেক এই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বেশকিছু ছবি পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিভিন্ন সময় পঙ্কজ নাথের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ দিতেন দেবাইন চন্দ্র সরকার। জাগৃক সূত্রে জানা গেছে, প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের অনেকেই আপত্তি করেছিলেন, কিন্তু কারও কথাই টেকেনি। বরিশাল-৪ আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের প্রভাব খাটিয়েই নাকি প্লটটি বরাদ্দা নেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী, দেবাইন চন্দ্র সরকার বলেন, আমি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে। টাকার অভাবে আবার বিক্রিও করে দিয়েছে। প্রশ্ন ছিল, চাকরির যোগদানের দেড় বছরে মাথায় কিভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়েছে? তিনি বলেন, আমার কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়মনীতি মেনেই প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন কিভাবে তারা দিয়েছে। বরাদ্দের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা কোথাই পেলেন জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি চাকরির আগে টিউশনি করে টাকা জমিয়েছি। আমার আয় কর নথিতে এ টাকার হিসাব দেওয়া আছে। শুধু টিউশনি করে একজন মানুষ কত টাকা আয় করতে পারেন যে তিনি প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন? এমন অনেক প্রশ্নই উঠেছে আওয়ামী লীগের দোষর এই কর্মকর্তাকে ঘিরে। এ বিষয়ে জানতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যারে সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন এই বাংলাদেশে দেবাইন চন্দ্র সরকারদের মতো আওয়ামী দোষরদের দাপট এখনও কমেনি। দুর্নীতি ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা এখনও সক্রিয় নিজ নিজ জায়গায়। বিভিন্ন সময় এসব দুর্নীতিবাজদের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলেও সরকারের দৃশ্যত কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। গুটি কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে সরানোই কি শাস্তি? ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলা কবে সত্যিকার অর্থে মুক্ত হবে স্বৈরাচার আওয়ামী দোষরদের হাত থেকে? সেই প্রশ্ন জনমনে।




















