পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন: হুমকির মুখে হাডিং ব্রিজ, লালন শাহ সেতু এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- আপডেট এর সময় : ০৫:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 195
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় কিছু অসাধু চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে পদ্মা নদীর আশপাশের অঞ্চলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কর্মকাণ্ড চলছে। এতে পরিবেশ, স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভেড়ামারা ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর থেকে এস কে বেটার মেশিন দিয়ে সরাসরি বালি কেটে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এস্কেভেটর Excavator মাধ্যমে নদীর তলদেশ এবং চর এলাকা থেকে বড় আকারে বালি তোলার ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। এই প্রক্রিয়া পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবিকা এবং কৃষি জমি ধ্বংস করছে। এই অবৈধ উত্তোলনের ফলে হাডিং ব্রিজ, লালন শাহ সেতু এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে লালন শাহ সেতুর পিলারের কাছ থেকে সরাসরি বালি উত্তোলন করা হচ্ছে, যা সেতুটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ ও তলদেশের গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের পরিবেশ এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপির সাবেক এমপি শহিদুল হকের আত্মীয় বিজলী, ভুই বাবু, বিপ্লব, খোকন এবং রোকন এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। তারা ফেরিঘাট এলাকায় ড্রেজার এবং এস্কেভেটর Excavator ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালি উত্তোলন করছে। এসব বালি স্থানীয়ভাবে বিক্রি করার পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতারা অত্যাধুনিক গাড়ি ব্যবহার করে সন্ধ্যার পরে এই ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি এবং বিভিন্ন বিলাসবহুল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ স্থানীয় জনগণ জানিয়েছেন, পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের বাড়িঘর এবং ফসলি জমি ধ্বংস হচ্ছে। নদীভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, এস্কেভেটর Excavator এবং ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই সমস্যা আরো তীব্র হবে। পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। এস্কেভেটর Excavator এবং ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। নদীর তীর রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বালি উত্তোলনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পদ্মা নদী থেকে ড্রেজার এবং এস্কেভেটর Excavator মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলন কেবল পরিবেশ ও জনগণের জন্য নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ ব্যাপার অভিযুক্তদের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বা যোগাযোগ করলেও , তারা ফোন রিসিভ করতেও পরে কথা প্রকাশ করেন।




















