১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বস্ত্র অধিদপ্তরে বিতর্কি টেন্ডার পদ্ধতিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৯:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • / 193

দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য সারাদেশে ৯টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ১২টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ৪১টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালনা করে আসছে বস্ত্র অধিদপ্তর। এসব প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কেনা হয়েছে কোটি কোটি টাকার মেশিন ও যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ দিন ধরে ডিপিএম পদ্ধতিতে চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটার টেন্ডার। যে কারণে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়াসহ নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা। বস্ত্র অধিদপ্তরে এই ডিপিএম পদ্ধতি বন্ধ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে চিঠি চালাচালি। বিভিন্ন সময় বিষয়টি উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। এমনকি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু চক্রের সার্থ হাসিলের ষড়যন্ত্রের শেকলে বন্দি সেই উদ্যোগ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বস্ত্র অধিদপ্তরের বেশকিছু টেন্ডারে দেখা যায় আওয়ামী পন্থি বিভিন্ন ঠিকাদার ধারাবাহিক ভাবে কাজ পেয়েছেন। কোন কোন ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকলেও ডিপিএম পদ্ধতিতে তাকে কাজ দেয়া হয়েছে। আর এসবই হয়েছে দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালকদের মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের কারণে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের একটি টেন্ডারে ৩০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট বেড স্ক্রিন প্রিন্টিং মেশিন দেয়ার কথা ঠিকাদারের। কিন্তু ঠিকাদার মাত্র ৮ লাখ টাকা দামের একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেন। বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রকল্প পরিচালক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। ২০১৮ সালের আরেকটি চিঠিতে দেখা যায়, ৪টি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের স্থাপন প্রকল্পে ডিপিএম পদ্ধতিতে ৯৪২৫.৭৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ৬২৮টি যন্ত্রপাতি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৭ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর সেই প্রকল্প নিয়েই ওঠে প্রশ্ন। ২০২১ সালের বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবার দেয়া একটি চিঠিতে দেখা যায়, ওই ৪টি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়। যেখানে বলা হয়, ঠিকাদার নিয়োগে প্রকল্প পরিচালক স্বজনপ্রীতি ও মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন করেছেন। যোগ্য ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে কাজ দেয়া হয়েছে পছন্দের ঠিকাদারদের। সেই সুযোগে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়, একটি মেশিনের পরিবর্তে অন্য মেশিন সরবরাহ, ত্রুটিপূর্ণ ও নষ্ট মেশিন দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে শত কোটি টাকা। ডিপিএম পদ্ধতিতে প্রকল্প পরিচালকের বিশেষ ক্ষমতার অপব্যবহারে এই হরিলুট বলে মনে করেন অধিকাংশ ঠিকাদার। তাদের মতে ওপেন টেন্ডারে সকল ঠিকাদার সমান সুযোগ পায় এবং প্রতিগিতামূলক অংশ গ্রহণ করে। সেখানে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগও থাকে কম। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিগত সরকার প্রধান বিভিন্ন প্রকল্পে কেনা-কাটার ক্ষেত্র ডিপিএম পদ্ধতি বাতিল করে ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বানের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে এরপরও চলে টানাটানি। যদিও বস্ত্র অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ডিপিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি কাজ এখন থেকে অনলাইনে করা হচ্ছে, যে কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। তিনি আরও জানান, যদি কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। বস্ত্র অধিদপ্তকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

31 October 2026

বস্ত্র অধিদপ্তরে বিতর্কি টেন্ডার পদ্ধতিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ

ট্যাগ :

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

বস্ত্র অধিদপ্তরে বিতর্কি টেন্ডার পদ্ধতিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট এর সময় : ০৯:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য সারাদেশে ৯টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ১২টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ৪১টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালনা করে আসছে বস্ত্র অধিদপ্তর। এসব প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কেনা হয়েছে কোটি কোটি টাকার মেশিন ও যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ দিন ধরে ডিপিএম পদ্ধতিতে চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটার টেন্ডার। যে কারণে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়াসহ নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা। বস্ত্র অধিদপ্তরে এই ডিপিএম পদ্ধতি বন্ধ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে চিঠি চালাচালি। বিভিন্ন সময় বিষয়টি উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। এমনকি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু চক্রের সার্থ হাসিলের ষড়যন্ত্রের শেকলে বন্দি সেই উদ্যোগ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বস্ত্র অধিদপ্তরের বেশকিছু টেন্ডারে দেখা যায় আওয়ামী পন্থি বিভিন্ন ঠিকাদার ধারাবাহিক ভাবে কাজ পেয়েছেন। কোন কোন ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকলেও ডিপিএম পদ্ধতিতে তাকে কাজ দেয়া হয়েছে। আর এসবই হয়েছে দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালকদের মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের কারণে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের একটি টেন্ডারে ৩০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট বেড স্ক্রিন প্রিন্টিং মেশিন দেয়ার কথা ঠিকাদারের। কিন্তু ঠিকাদার মাত্র ৮ লাখ টাকা দামের একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেন। বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রকল্প পরিচালক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। ২০১৮ সালের আরেকটি চিঠিতে দেখা যায়, ৪টি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের স্থাপন প্রকল্পে ডিপিএম পদ্ধতিতে ৯৪২৫.৭৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ৬২৮টি যন্ত্রপাতি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৭ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর সেই প্রকল্প নিয়েই ওঠে প্রশ্ন। ২০২১ সালের বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবার দেয়া একটি চিঠিতে দেখা যায়, ওই ৪টি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়। যেখানে বলা হয়, ঠিকাদার নিয়োগে প্রকল্প পরিচালক স্বজনপ্রীতি ও মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন করেছেন। যোগ্য ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে কাজ দেয়া হয়েছে পছন্দের ঠিকাদারদের। সেই সুযোগে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়, একটি মেশিনের পরিবর্তে অন্য মেশিন সরবরাহ, ত্রুটিপূর্ণ ও নষ্ট মেশিন দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে শত কোটি টাকা। ডিপিএম পদ্ধতিতে প্রকল্প পরিচালকের বিশেষ ক্ষমতার অপব্যবহারে এই হরিলুট বলে মনে করেন অধিকাংশ ঠিকাদার। তাদের মতে ওপেন টেন্ডারে সকল ঠিকাদার সমান সুযোগ পায় এবং প্রতিগিতামূলক অংশ গ্রহণ করে। সেখানে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগও থাকে কম। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিগত সরকার প্রধান বিভিন্ন প্রকল্পে কেনা-কাটার ক্ষেত্র ডিপিএম পদ্ধতি বাতিল করে ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বানের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে এরপরও চলে টানাটানি। যদিও বস্ত্র অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ডিপিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি কাজ এখন থেকে অনলাইনে করা হচ্ছে, যে কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। তিনি আরও জানান, যদি কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। বস্ত্র অধিদপ্তকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

31 October 2026

বস্ত্র অধিদপ্তরে বিতর্কি টেন্ডার পদ্ধতিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ