১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির বেড়াজালে গৃহায়নের একাধিক কর্তকর্তা; অনুসন্ধানে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ১২:৪৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫
  • / 216

জাকির পাটোয়ারী: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মানেই যেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা, সবাই যেন উঠে পড়ে লেগেছেন সবকিছু লুটেপুটে খেতে। যে কারণে এই দপ্তর প্রায়ই শিরোনাম হয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকার। বার বার গৃহায়নের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসায় বিব্রত দপ্তরের চেয়ারম্যানও। এমন পরিস্থিতিতে গৃহায়নের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে অনুসন্ধানে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা। আর সেখানেই উঠে এসেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখার অফিস সহকারী, বর্তমানে মিরপুর ডিভিশন অফিসে কর্মরত মোস্তফা কামাল শাহীন এর অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
এক আইনজীবী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তফা কামাল শাহীন চাকুরীর শুরুতে মাস্টাররোলে মিরপুরে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখায় রাজস্বখাতভূক্ত হিসাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে মিরপুর ডিভিশন অফিসে বদলীর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। হিসাব সহকারী হিসেবে যোগদান করলেও পরবর্তীতে অফিস সহকারী হন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ছত্রছায়ায় খুব অল্প দিনেই বদলে যায় শাহীনের জীবন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সিবিএ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ভূমি শাখার নিয়ন্ত্রণ নেন। শ্রম অধিদপ্তর বর্তমান সিবিএ বাতিল করলেও ঢাকাস্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সব শাখায় তার প্রভাব রয়েছে। এর জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট। যেখানে রয়েছেন, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আসান হাবিব, উপ-পরিচালক-১ এম সেলিম শাহনেওয়াজ সহ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লার বড়ুরার এগারোগ্রামে দুই কোটি টাকার বেশি খরচায় নির্মাণ করেছেন বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ী। এর সামনেই রয়েছে বিশাল ঘাটলাসহ পুকুর। গ্রামে কিনেছেন প্রায় ৮ থেকে ৯ একর জমি। এর অধিকাংশই স্ত্রী ও স্বজনদের নামে। মিরপুর সেকশন-২, ব্লক-এ, এভিনিউ-১ এ ২২ নং বাড়ীর নীচ তলায় বিদেশী কাপড়ের বিশাল শো-রুম রয়েছে তার। যা তার ব্যবসায়িক পার্টনার মোঃ নাজমুল হোসেন বাবু পরিচালনা করেন। মিরপুর সেকশন-৮, ব্লক-ক, রোড-৮ এর প্লট নং ১১ আপন খালাতো ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের নামে কিনেছিলেন। যা পরে বিক্রি করে দেন। সেকশন-৮, ব্লক-ক, রোড-১৬ এর ৯ নং প্লটটি আপন ছোট ভাই মোঃ আরিফ হোসেনের নামে কিনে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। সেকশন-৮, ব্লক-ক, রোড-১৬ এর ৭ নং প্লটটি ভায়রা মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নামে কেনা। সেকশন-৮, ব্লক-খ, রোড-১ এর ৯ নং প্লট তার বন্ধু মোহাম্মদ আলী’র। সেকশন-৮, ব্লক-খ, রোড-১ এর ১১ নং প্লট তার দুই সহযোগী মোঃ আবুল কালাম, স্টাফ বাস চালক ও মোঃ শাহজাহানের স্ত্রীর নামে কিনেছিলেন। যা পরে বিক্রি করে দেন। এছাড়া, তিনি রূপনগর (১ম পর্ব) রোড-২৫, প্লট নং-১১ ও ৩১; রোড নং-২৯, প্লট নং ৪ ও রোড নং-৪০, প্লট নং-১২ বিকল্প বরাদ্দ নিয়ে নিজ ও আত্মীয়স্বজনের নামে কিনে, পরে বিক্রি করে দিয়েছেন। অবৈধ পন্থায় প্লট বরাদ্দ নিয়ে পরবর্তিতে তা বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমান তুলে ধরা হয়েছে এই অভিযোগে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মিরপুর হাউজিং এস্টেটের সেকশন-১০, ব্লক-এ, লেন-১১, বাড়ী নং-০৯ বরাদ্দ থেকে শুরু করে সব কাগজপত্র বাইরে থেকে তৈরি করে স্বাক্ষর জাল করে নথিটি অনুমোদন দেখিয়েছেন এবং গত ০৩/০৪/২০২৪ তারিখ পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রওশন আরা খানম এর নামে লীজ দলিল রেজিস্ট্রি করেন। উল্লেখিত বাড়ীতে স্বাধীনতার পর থেকে ইদ্রিছ আলী, মোঃ আব্দুর রউফ ও মোঃ ফজির উদ্দিন বসবাস করে আসছেন। বাড়ীর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিল ওই তিনজনের নামেই রয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সাল থেকে কোন নথি ডিজিটাল নম্বর ছাড়া অনুমোদন প্রদান না করলেও এক্ষেত্রে ডিজিটাল নম্বর ছাড়াই লীজ দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব রেজিস্ট্রারকে পত্র দেওয়া হয়েছে। যার স্মারক নম্বর জাগৃক/ভূসব্য এমএইচ ১০৪২/৬২/২৭৫৯; তারিখ: ০৩/০৪/২০২৪ খ্রিঃ।
মিরপুর সেকশন-১৩, ব্লক-বি, লেন-১ এর ৩০ ও ৩২নং পুনর্বাসন প্লট দুটির মূল নথি গায়েব করে নতুন নথি সৃজন করে জাল স্বাক্ষরে ভূয়া চালান, দখলপত্র, দায়মুক্তির ছাড়পত্র ও এ্যাওয়ার্ড দেখিয়ে ২০১৮ সালে নথি অনুমোদনের দীর্ঘ ০৬ বছর পরে ২০২৩ সালে মিজানুর রহমানের নামে লীজ দলিল সম্পন্ন করেন।
তিনি সরকারী কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ী হিসেবে পাসপোর্ট করেছেন। পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংঙ্কা ও দুবাইয়ে কয়েকবার ভ্রমণ করেছেন।
তিনি ও তার স্ত্রী মিসেস নাছরিন সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা দায়ের হয়েছে, মামলা নং ৫৩/২০২২; তারিখ: ০৮/০৩/২০২২ খ্রিঃ। তার স্ত্রীর নামে একই অভিযোগে দুদকে মামলা হয়, মামলা নং ৫৪/২০২২; তারিখ: ০৮/০৩/২০২২ খ্রিঃ। কিন্তু অজানা কারণে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বারবার পরিবর্তন হয়েছে। পিছিয়েছে প্রতিবেদন দাখিল।
শাহীনের মতোই বেপরোয়া গৃহায়নের উপ-পরিচালক তায়েব উর রহমান ও ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক-১ আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজ।
আওয়ামী পরিবারের সন্তান জাতীয় গৃহায়নের উপ-পরিচালক তায়েব উর রহমান ফরিদপুর মেডিকেলে ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল তায়েব বিভিন্ন সময় ছাত্রদল ও বিএনপির কর্মসূচিতে হামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। যে কারণে দ্রুত তম সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের খুব কাছে চলে যান তিনি। পরবর্তিতে বিসিএস এ আওয়ামী লীগের সুপারিশ কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান তায়েব উর রহমান।সিন্ডিকেট গড়ে ফ্ল্যাট ও প্লট বাণিজ্য, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ঘুষ-দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনসহ বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এমনকি একজন প্রশাসনিক ক্যাডার হয়েও নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে আজও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত প্রতিবেদন।
ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক -১ আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ। বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য প্রভাবে সেই আদেশ স্থগিত করে স্বপদে বহাল রয়েছেন তিনি। অফিস সহকারি রাকিব, সুমনসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময়

প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। কিন্তু অজানা কারণে বিষয়টি নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে, এই দপ্তরকে দুর্নীতি মুক্ত করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে গৃহায়নের চেয়ারম্যান, সেই জালে দুর্নীতির এই রাঘববোয়ালরা ধরা পড়বে বলে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

31 October 2026

দুর্নীতির বেড়াজালে গৃহায়নের একাধিক কর্তকর্তা; অনুসন্ধানে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ট্যাগ :

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

দুর্নীতির বেড়াজালে গৃহায়নের একাধিক কর্তকর্তা; অনুসন্ধানে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট এর সময় : ১২:৪৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

জাকির পাটোয়ারী: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মানেই যেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা, সবাই যেন উঠে পড়ে লেগেছেন সবকিছু লুটেপুটে খেতে। যে কারণে এই দপ্তর প্রায়ই শিরোনাম হয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকার। বার বার গৃহায়নের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসায় বিব্রত দপ্তরের চেয়ারম্যানও। এমন পরিস্থিতিতে গৃহায়নের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে অনুসন্ধানে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা। আর সেখানেই উঠে এসেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখার অফিস সহকারী, বর্তমানে মিরপুর ডিভিশন অফিসে কর্মরত মোস্তফা কামাল শাহীন এর অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
এক আইনজীবী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তফা কামাল শাহীন চাকুরীর শুরুতে মাস্টাররোলে মিরপুরে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখায় রাজস্বখাতভূক্ত হিসাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে মিরপুর ডিভিশন অফিসে বদলীর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। হিসাব সহকারী হিসেবে যোগদান করলেও পরবর্তীতে অফিস সহকারী হন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ছত্রছায়ায় খুব অল্প দিনেই বদলে যায় শাহীনের জীবন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সিবিএ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ভূমি শাখার নিয়ন্ত্রণ নেন। শ্রম অধিদপ্তর বর্তমান সিবিএ বাতিল করলেও ঢাকাস্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সব শাখায় তার প্রভাব রয়েছে। এর জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট। যেখানে রয়েছেন, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আসান হাবিব, উপ-পরিচালক-১ এম সেলিম শাহনেওয়াজ সহ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লার বড়ুরার এগারোগ্রামে দুই কোটি টাকার বেশি খরচায় নির্মাণ করেছেন বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ী। এর সামনেই রয়েছে বিশাল ঘাটলাসহ পুকুর। গ্রামে কিনেছেন প্রায় ৮ থেকে ৯ একর জমি। এর অধিকাংশই স্ত্রী ও স্বজনদের নামে। মিরপুর সেকশন-২, ব্লক-এ, এভিনিউ-১ এ ২২ নং বাড়ীর নীচ তলায় বিদেশী কাপড়ের বিশাল শো-রুম রয়েছে তার। যা তার ব্যবসায়িক পার্টনার মোঃ নাজমুল হোসেন বাবু পরিচালনা করেন। মিরপুর সেকশন-৮, ব্লক-ক, রোড-৮ এর প্লট নং ১১ আপন খালাতো ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের নামে কিনেছিলেন। যা পরে বিক্রি করে দেন। সেকশন-৮, ব্লক-ক, রোড-১৬ এর ৯ নং প্লটটি আপন ছোট ভাই মোঃ আরিফ হোসেনের নামে কিনে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। সেকশন-৮, ব্লক-ক, রোড-১৬ এর ৭ নং প্লটটি ভায়রা মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নামে কেনা। সেকশন-৮, ব্লক-খ, রোড-১ এর ৯ নং প্লট তার বন্ধু মোহাম্মদ আলী’র। সেকশন-৮, ব্লক-খ, রোড-১ এর ১১ নং প্লট তার দুই সহযোগী মোঃ আবুল কালাম, স্টাফ বাস চালক ও মোঃ শাহজাহানের স্ত্রীর নামে কিনেছিলেন। যা পরে বিক্রি করে দেন। এছাড়া, তিনি রূপনগর (১ম পর্ব) রোড-২৫, প্লট নং-১১ ও ৩১; রোড নং-২৯, প্লট নং ৪ ও রোড নং-৪০, প্লট নং-১২ বিকল্প বরাদ্দ নিয়ে নিজ ও আত্মীয়স্বজনের নামে কিনে, পরে বিক্রি করে দিয়েছেন। অবৈধ পন্থায় প্লট বরাদ্দ নিয়ে পরবর্তিতে তা বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমান তুলে ধরা হয়েছে এই অভিযোগে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মিরপুর হাউজিং এস্টেটের সেকশন-১০, ব্লক-এ, লেন-১১, বাড়ী নং-০৯ বরাদ্দ থেকে শুরু করে সব কাগজপত্র বাইরে থেকে তৈরি করে স্বাক্ষর জাল করে নথিটি অনুমোদন দেখিয়েছেন এবং গত ০৩/০৪/২০২৪ তারিখ পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রওশন আরা খানম এর নামে লীজ দলিল রেজিস্ট্রি করেন। উল্লেখিত বাড়ীতে স্বাধীনতার পর থেকে ইদ্রিছ আলী, মোঃ আব্দুর রউফ ও মোঃ ফজির উদ্দিন বসবাস করে আসছেন। বাড়ীর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিল ওই তিনজনের নামেই রয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সাল থেকে কোন নথি ডিজিটাল নম্বর ছাড়া অনুমোদন প্রদান না করলেও এক্ষেত্রে ডিজিটাল নম্বর ছাড়াই লীজ দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব রেজিস্ট্রারকে পত্র দেওয়া হয়েছে। যার স্মারক নম্বর জাগৃক/ভূসব্য এমএইচ ১০৪২/৬২/২৭৫৯; তারিখ: ০৩/০৪/২০২৪ খ্রিঃ।
মিরপুর সেকশন-১৩, ব্লক-বি, লেন-১ এর ৩০ ও ৩২নং পুনর্বাসন প্লট দুটির মূল নথি গায়েব করে নতুন নথি সৃজন করে জাল স্বাক্ষরে ভূয়া চালান, দখলপত্র, দায়মুক্তির ছাড়পত্র ও এ্যাওয়ার্ড দেখিয়ে ২০১৮ সালে নথি অনুমোদনের দীর্ঘ ০৬ বছর পরে ২০২৩ সালে মিজানুর রহমানের নামে লীজ দলিল সম্পন্ন করেন।
তিনি সরকারী কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ী হিসেবে পাসপোর্ট করেছেন। পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংঙ্কা ও দুবাইয়ে কয়েকবার ভ্রমণ করেছেন।
তিনি ও তার স্ত্রী মিসেস নাছরিন সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা দায়ের হয়েছে, মামলা নং ৫৩/২০২২; তারিখ: ০৮/০৩/২০২২ খ্রিঃ। তার স্ত্রীর নামে একই অভিযোগে দুদকে মামলা হয়, মামলা নং ৫৪/২০২২; তারিখ: ০৮/০৩/২০২২ খ্রিঃ। কিন্তু অজানা কারণে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বারবার পরিবর্তন হয়েছে। পিছিয়েছে প্রতিবেদন দাখিল।
শাহীনের মতোই বেপরোয়া গৃহায়নের উপ-পরিচালক তায়েব উর রহমান ও ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক-১ আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজ।
আওয়ামী পরিবারের সন্তান জাতীয় গৃহায়নের উপ-পরিচালক তায়েব উর রহমান ফরিদপুর মেডিকেলে ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল তায়েব বিভিন্ন সময় ছাত্রদল ও বিএনপির কর্মসূচিতে হামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। যে কারণে দ্রুত তম সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের খুব কাছে চলে যান তিনি। পরবর্তিতে বিসিএস এ আওয়ামী লীগের সুপারিশ কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান তায়েব উর রহমান।সিন্ডিকেট গড়ে ফ্ল্যাট ও প্লট বাণিজ্য, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ঘুষ-দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনসহ বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এমনকি একজন প্রশাসনিক ক্যাডার হয়েও নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে আজও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত প্রতিবেদন।
ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক -১ আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ। বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য প্রভাবে সেই আদেশ স্থগিত করে স্বপদে বহাল রয়েছেন তিনি। অফিস সহকারি রাকিব, সুমনসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময়

প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। কিন্তু অজানা কারণে বিষয়টি নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে, এই দপ্তরকে দুর্নীতি মুক্ত করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে গৃহায়নের চেয়ারম্যান, সেই জালে দুর্নীতির এই রাঘববোয়ালরা ধরা পড়বে বলে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

31 October 2026

দুর্নীতির বেড়াজালে গৃহায়নের একাধিক কর্তকর্তা; অনুসন্ধানে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য