গৃহায়নের সেই তরিকুল এখন মিরপুরে; কাদের ইন্ধনে চলছে আওয়ামী দোষরদের পুনর্বাসন?
- আপডেট এর সময় : ০২:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
- / 192
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও বাস্তবিক অর্থে তা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নজির নেই বললেই চলে। দিনের পর দিন হরিলুট করে কিছু দুর্নীতি পরায়ণ প্রকৌশলী শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। ঠিকাদারদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে এক প্রকার দখলে রেখেছেন পুরো অধিদপ্তর। বিষয়গুরো বার বার সামনে এলেও অজানা কারণে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। কালেভদ্রে দু’একজনকে সাময়িক বহিষ্কার অথবা অন্যত্র ট্রান্সফার করা হয় ঠিকই,কিন্তু লোক দেখানো এসব পদক্ষেপে বন্ধ হয়নি দুর্নীতিবাজদের অপকর্ম। উল্টো টাকার জোরে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মদদে ঘুরে ফিরে দুর্নীতিবাজ-সমালোচিত ব্যাক্তিগুলো ফিরে আসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে।
সেই তালিকায় রয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষর মিরপুর অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।
তরিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। আওয়ামী পরিবারের সন্তান তরিকুলের ছোট ভাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন। তার চাচী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। সেই প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কুষ্টিয়া অফিসে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন তিনি। নিজ জেলায় কর্মস্থলের সুযোগে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তরিকুল। জাগৃক কুষ্টিয়া অফিসে বানিয়ে ছিলেন ঘুষ বাণিজ্যের রাম রাজত্ব।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘুষ বাণিজ্য কেন্দ্র করে ২০২১ সালে উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম স্থানীয়দের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন। সেসময় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কাজী আতিয়ুর রহমানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রধান কার্যালয়ে বদলি হন তিনি।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী সুবিধাবাদীদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ জোনগুলোতে অর্থের বিনিময়ে পদায়নের অভিযোগ রয়েছে জাগৃক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কাজী আতিয়ুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনে এবং নিজ এলাকার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ জোনে একের পর এক বদলি করছেন। বিনিময়ে নিজের পকেটে ভরছেন মোটা অংকের টাকা।
অনুসন্ধানে জানায়, দুর্নীতিবাজ কাজী আতিয়ুর রহমানের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া তরিকুল মিরপুর অফিসে আসার পর থেকেই শুরু করেছেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সিন্ডিকেট। ফ্ল্যাটের সেল পারমিশন (বিক্রয় অনুমতি), হস্তান্তর সূত্রে বা দানসূত্রে মিউটেশন (নামজারি), চালান পাস, লিজ দলিলের স্বাক্ষর, দায় মুক্তি সনদ ও হাজিরাসহ বিভিন্ন কাজ করতে সেবা প্রার্থীদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিনা কারেণ ফাইল আটকে দেয়া, দুর্ব্যবহার তার প্রতিদিনের কাণ্ড। জরুরি প্রয়োজনে ফাইল পাশ করাতে তাই উপসহকারী প্রকৌশলীর সব অন্যায় আবদার মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে সেবাগ্রহিতাদের। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সাহসও পান না তারা।
কয়েকজন ভুক্তোভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি ফাইলে টাকা ছাড়া স্বাক্ষর করেন না তরিকুল। পাঁচটার পর ঘুষের টাকার ভাগ-বাটোয়ারা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন কর্মকর্তার পকেটে। এভাবেই চলছে জাগৃক মিরপুর অফিস। কিন্তু কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস পান না। কারণ তাদের ফাইল আটকে নানান ভাবে হয়রানি করবে এই সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের তালিকার শীর্ষে থাকা তরিকুলের মিরপুর ও কক্সবাজারে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। এছাড়া বাবা কামাল উদ্দিন, স্ত্রী মুনমুন আক্তার, ভাই ফয়সল মেহেদি ও মাহমুদুল হাসানের নামে আরও চারটি প্লট নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটে (১ম-৩য়) পর্বে নামে বেনামে প্রায় ১৯টি প্লট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এবিষযে তার মন্তব্য জানতে বার বার মোবাইলে ফোন করে এবং খুদেবার্তা দিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতি এবং আওয়ামী দোষর হওয়া সত্বেও কিভাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম এখনও জগৃকের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। কে বা কারা মদদ দিচ্ছে তাকে, কাদের ইন্ধনে চলছে আওয়ামী দোষরদের পুনর্বাসন? এমন অনেক প্রশ্নেই উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নিয়ে।




















