০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী আমলে নজির বিহীন লুটপাট; নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পূবালী ব্যাংক

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০১:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 234

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট হয় দেশের ব্যাংকিং খাতে। বিদেশে পাচার হয় হাজার কোটি টাকা। নামে-বেনামে ঋণের ফাঁদে নিঃশ্ব হয় অধিকাংশ ব্যাংক। যে কারণে ভেঙ্গে পড়ে দেশের অর্থনীতি।

ঋণ জালিয়াতি, লুটপাট ও দুর্নীতির সেই তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে পূবালী ব্যাংক। পূবালী ব্যাংক ১৯৮৬ সালে ব্যক্তি মালিকানায় আসার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সফল ব্যাংকে পরিণত হয়। এরপরই ব্যাংকখেকো দুর্নীতিবাজদের কুদৃষ্টি পড়ে ব্যাংকটির ওপর। নামে বেনামে ব্যাংকের সিএসআরএম ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র।

দূর্নীতিবাজ এই সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা বিগত আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত দোসর, সাবেক সংসদ সদস্য এবং ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার। তার সাথে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, ঋণখেলাপী পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুব, ফাহিম আহমদ ফারুক চৌধুরী। এছাড়া,  বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ-উল-আলম, স্বতন্ত্র পরিচালক নওশাদ আলী চৌধুরীসহ আরও বেশকজন।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন পূবালী ব্যাংকের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান চলছে ব্যাংকখেকো সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ লুটপাটকারী এই চক্রের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাংকটির ঋণখেলাপী পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুব নিজেই বড় একজন ঋণখেলাপী।তার চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে ঋণ আছে প্রায় ১৩২ কোটি টাকারও বেশি। চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় হাফিজ আহমদ মজুমদার ঋণের সুদ মওকুফ করে ৬৫ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন, কিন্তু উক্ত টাকাও পরিশোধ করতে কবিরুজ্জামান ইয়াকুব ব্যর্থ হন।

এতো সাহায্য সহযোগিতা করার পরও উক্ত চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করা সত্ত্বেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি পরিচালক পদে আছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনও রহস্যজনক কারনে কবিরুজ্জামান ইয়াকুবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

শুধু চন্দ্রা স্পিনিং মিল নয়, এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ন্যুনতম যাচাই-বাছাই না করেই কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেএই ব্যাংক। যার ফলে পূবালী ব্যাংকে ঋণ খেলাপির সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। এতে শঙ্কায় রয়েছে সাধারণ গ্রাহকের আমানতও।

অভিযোগের বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি মোহাম্মদ আলী বলেন, দুদক অনুসন্ধান করছে। তাদের চাহিত মত তথ্য দেয়া হচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান এই অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার এবং পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

31 October 2026

আওয়ামী আমলে নজির বিহীন লুটপাট; নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পূবালী ব্যাংক

ট্যাগ :

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

আওয়ামী আমলে নজির বিহীন লুটপাট; নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পূবালী ব্যাংক

আপডেট এর সময় : ০১:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট হয় দেশের ব্যাংকিং খাতে। বিদেশে পাচার হয় হাজার কোটি টাকা। নামে-বেনামে ঋণের ফাঁদে নিঃশ্ব হয় অধিকাংশ ব্যাংক। যে কারণে ভেঙ্গে পড়ে দেশের অর্থনীতি।

ঋণ জালিয়াতি, লুটপাট ও দুর্নীতির সেই তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে পূবালী ব্যাংক। পূবালী ব্যাংক ১৯৮৬ সালে ব্যক্তি মালিকানায় আসার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সফল ব্যাংকে পরিণত হয়। এরপরই ব্যাংকখেকো দুর্নীতিবাজদের কুদৃষ্টি পড়ে ব্যাংকটির ওপর। নামে বেনামে ব্যাংকের সিএসআরএম ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র।

দূর্নীতিবাজ এই সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা বিগত আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত দোসর, সাবেক সংসদ সদস্য এবং ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার। তার সাথে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, ঋণখেলাপী পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুব, ফাহিম আহমদ ফারুক চৌধুরী। এছাড়া,  বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ-উল-আলম, স্বতন্ত্র পরিচালক নওশাদ আলী চৌধুরীসহ আরও বেশকজন।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন পূবালী ব্যাংকের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান চলছে ব্যাংকখেকো সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ লুটপাটকারী এই চক্রের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাংকটির ঋণখেলাপী পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুব নিজেই বড় একজন ঋণখেলাপী।তার চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে ঋণ আছে প্রায় ১৩২ কোটি টাকারও বেশি। চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় হাফিজ আহমদ মজুমদার ঋণের সুদ মওকুফ করে ৬৫ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন, কিন্তু উক্ত টাকাও পরিশোধ করতে কবিরুজ্জামান ইয়াকুব ব্যর্থ হন।

এতো সাহায্য সহযোগিতা করার পরও উক্ত চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করা সত্ত্বেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি পরিচালক পদে আছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনও রহস্যজনক কারনে কবিরুজ্জামান ইয়াকুবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

শুধু চন্দ্রা স্পিনিং মিল নয়, এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ন্যুনতম যাচাই-বাছাই না করেই কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেএই ব্যাংক। যার ফলে পূবালী ব্যাংকে ঋণ খেলাপির সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। এতে শঙ্কায় রয়েছে সাধারণ গ্রাহকের আমানতও।

অভিযোগের বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি মোহাম্মদ আলী বলেন, দুদক অনুসন্ধান করছে। তাদের চাহিত মত তথ্য দেয়া হচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান এই অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার এবং পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

31 October 2026

আওয়ামী আমলে নজির বিহীন লুটপাট; নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পূবালী ব্যাংক