স্বর্ণ আত্মসাতের পর চুরির নাটক সাজান কাস্টমস কর্মকর্তারা
- আপডেট এর সময় : ০৩:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 172
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের লকার থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ উধাও এর রহস্য উম্নোচন করেছে তদন্ত কমিটি। এই ঘটনায় গঠন করা পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে জমা দিয়েছেন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, চুরি নয়, বরং স্বর্ণগুলো আত্মসাৎ করা হয়। আর এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন ঢাকা কাস্টম হাউসের আটজন। এছাড়া প্রাথমিকভাবে ৫৫ দশমিক ৫৩ কেজি স্বর্ণ খোয়া যাওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর পরিমাণ ৬১ দশমিক ৮১৫ কেজি। এনবিআরের একটি সুত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বিমানবন্দরে কর্মরত গুদাম কর্মকর্তা সাইদুল ও শহিদুলকে বদলি করে তাদের স্থলে আকরাম শেখ ও মাসুম রানাকে পদায়ন করা হয়। পদায়ন আদেশে পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুদামের পণ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বদলি করা দুই কর্মকর্তা ১৭ আগস্ট নবনিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেন। এতে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার বুঝিয়ে দেওয়ার তথ্য আছে।
গত ২২ আগস্ট নবযোগদান করা দুই কর্মকর্তা (আকরাম ও মাসুম) দায়িত্ব হস্তান্তর করা স্বর্ণগুলোর মধ্যে ছয়টি ডিএমের পণ্য খুঁজে পাচ্ছেন না মর্মে ঢাকা কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর সাইদুল ও শহিদুল সাত কার্যদিবসের মধ্যে স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। গুদামের স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের ফের গুদাম কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর ঢাকা কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ট্রানজিট গুদাম পরিদর্শন করেন। তখন চার গুদাম কর্মকর্তা স্বর্ণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর ছয়টি ডিএমভুক্ত পণ্য ২৭ আগস্ট প্রযোজ্য শুল্ক কর পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এ ঘটনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, প্রাথমিকভাবে ছয়টি ডিএম এর পণ্য সরিয়ে নিয়েছেন কিংবা নিজের কাছে রেখেছেন এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পুনরায় সেগুলো খুঁজে পেয়ে কিংবা নতুন করে সংগ্রহ করে হিসাব মিলিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা হয়েছে। ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ গুদাম ইনভেন্টরি করার জন্য ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। ইনভেন্টরির মাধ্যমে প্রায় ৬২ কেজি স্বর্ণের খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকরাম ও মাসুম ছয়টি ডিএমের পণ্য খুঁজে না পাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন, কিন্তু অন্য ডিএমের ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেননি।
এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বিমানবন্দরে ট্রানজিট ও মূল্যবান পণ্য গুদামে ৪ সিপাহি (রেজাউল, মোজাম্মেল, আফজাল ও নিয়ামত) তাদের ওপর অর্পিত তল্লাশির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। তারা তাদের ওপর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে গুদাম থেকে স্বর্ণসহ যে কোনো পণ্য বের করা বা প্রবেশ করানো সম্ভব হতো না।




















