বন্ড সুবিধায় টাইলস আমদানি করে ৩৮ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি: দুদকের মামলা
- আপডেট এর সময় : ০৫:১৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 125
বন্ড সুবিধায় টাইলস আমদানি করে তা রপ্তানি না করে জালিয়াতির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করে সরকারের ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এ মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় টাইলস আমদানি করা হলেও তা কোনো পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার বা রপ্তানি করা হয়নি। পরিবর্তে, জাল নথিপত্র তৈরি করে এসব টাইলস স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় সরকারের মোট ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ভুয়া দলিলপত্র তৈরি করে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।
মামলায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন , সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের তৎকালীন কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা। জালিয়াতির কাজে সহায়তাকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।
মামলা দায়েরের পর দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, “সরকার দেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য বন্ড সুবিধা দেয়। কিন্তু একটি চক্র ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এই সুবিধার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে দুদক ও কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিশাল অংকের শুল্ক ফাঁকির ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলো।



















