ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
- আপডেট এর সময় : ০৬:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 68
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৪৫ কোটি ডলার (স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা) ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার সংস্থাটির বোর্ড সভায় ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প–২’-এর আওতায় এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত (ক্যাপিটাল–টু–রিস্ক–ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও) ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
এই সংকট মোকাবিলায় অনুমোদিত প্রকল্পটি ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বিমা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। এর আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়ানো, ডিপোজিট প্রটেকশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গঠন, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা ধরে রাখার কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
এছাড়াও ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যনির্ভর তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো জানান, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।



















