১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে নতুন করের বোঝা: গভীর সংকটে আবাসন খাত!

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৫:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 143

মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী

মোঃ সাইফুল ইসলাম: চলমান মন্দা, নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের চাপে এমনিতেই নাজুক দেশের আবাসন খাত। এর ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে জমির মালিকদের ওপর নতুন করের বোঝা এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের উচ্চ ফি এই খাতকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
দেশের অন্যতম শীর্ষ রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান জেসিএক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফবিসিসিআই-এর পরিচালক মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবাসন খাতে স্থবিরতা চলছে। প্রথম সারির গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান বাদে অন্যান্য ডেভেলপারদের ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা করা হচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে সেটিও থমকে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের নতুন নিয়ম আবাসন খাতে নতুন সংকট তৈরি করবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জমির মালিকদের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের (ডেভেলপার) কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক চুক্তি অর্থ বা সাইনিং মানির পাশাপাশি প্রাপ্ত ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে। এর আগে কেবল প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর এই ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য ছিল।
এই করের বাস্তব প্রভাব তুলে ধরে মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী বলেন, “ধরা যাক, ২৪টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে চুক্তির অংশ হিসেবে জমির মালিক ১২টি ফ্ল্যাট পেলেন। ওই ফ্ল্যাটগুলোর বাজারমূল্য যদি ১২ কোটি টাকা হয়, তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিককে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। এই বিপুল অঙ্কের করের কারণে শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম আকাশচুম্বী হবে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত করের এই বোঝার কারণে নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা পুরোপুরি থমকে গেছে, যা আবাসন খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের দারুণভাবে নিরুৎসাহ করছে। আবাসন খাতের এই স্থবিরতার চেইন রিঅ্যাকশন বা নেতিবাচক প্রভাব রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর মতো সহযোগী লিংকেজ শিল্প ও বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনাবেচার ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি ও ভ্যাট মিলিয়ে ক্রেতাদের বিপুল অঙ্কের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এই উচ্চ নিবন্ধন ফি সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এই সংকট থেকে উত্তরণে জেসিএক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী বলেন, “নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে যদি একটি যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, তবে বাজারে ফ্ল্যাট বিক্রি আশানুরূপভাবে বাড়বে। এতে সাময়িকভাবে করের হার কম মনে হলেও, বেচাকেনা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।” বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি থেকে আবাসন খাতকে রক্ষা করতে সরকারের নীতি নির্ধারকদের এই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্মাণসামগ্রীর ওপর করহার বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার বিপরীতে জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করের আওতায় আনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

13 September 2026

বাজেটে নতুন করের বোঝা: গভীর সংকটে আবাসন খাত!

abc

বাজেটে নতুন করের বোঝা: গভীর সংকটে আবাসন খাত!

আপডেট এর সময় : ০৫:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মোঃ সাইফুল ইসলাম: চলমান মন্দা, নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের চাপে এমনিতেই নাজুক দেশের আবাসন খাত। এর ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে জমির মালিকদের ওপর নতুন করের বোঝা এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের উচ্চ ফি এই খাতকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
দেশের অন্যতম শীর্ষ রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান জেসিএক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফবিসিসিআই-এর পরিচালক মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবাসন খাতে স্থবিরতা চলছে। প্রথম সারির গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান বাদে অন্যান্য ডেভেলপারদের ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা করা হচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে সেটিও থমকে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের নতুন নিয়ম আবাসন খাতে নতুন সংকট তৈরি করবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জমির মালিকদের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের (ডেভেলপার) কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক চুক্তি অর্থ বা সাইনিং মানির পাশাপাশি প্রাপ্ত ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে। এর আগে কেবল প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর এই ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য ছিল।
এই করের বাস্তব প্রভাব তুলে ধরে মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী বলেন, “ধরা যাক, ২৪টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে চুক্তির অংশ হিসেবে জমির মালিক ১২টি ফ্ল্যাট পেলেন। ওই ফ্ল্যাটগুলোর বাজারমূল্য যদি ১২ কোটি টাকা হয়, তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিককে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। এই বিপুল অঙ্কের করের কারণে শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম আকাশচুম্বী হবে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত করের এই বোঝার কারণে নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা পুরোপুরি থমকে গেছে, যা আবাসন খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের দারুণভাবে নিরুৎসাহ করছে। আবাসন খাতের এই স্থবিরতার চেইন রিঅ্যাকশন বা নেতিবাচক প্রভাব রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর মতো সহযোগী লিংকেজ শিল্প ও বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনাবেচার ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি ও ভ্যাট মিলিয়ে ক্রেতাদের বিপুল অঙ্কের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এই উচ্চ নিবন্ধন ফি সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এই সংকট থেকে উত্তরণে জেসিএক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেই চৌধুরী বলেন, “নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে যদি একটি যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, তবে বাজারে ফ্ল্যাট বিক্রি আশানুরূপভাবে বাড়বে। এতে সাময়িকভাবে করের হার কম মনে হলেও, বেচাকেনা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।” বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি থেকে আবাসন খাতকে রক্ষা করতে সরকারের নীতি নির্ধারকদের এই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্মাণসামগ্রীর ওপর করহার বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার বিপরীতে জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করের আওতায় আনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

13 September 2026

বাজেটে নতুন করের বোঝা: গভীর সংকটে আবাসন খাত!