নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে ডেকে গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
- আপডেট এর সময় : ০৫:১৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে আলামত নষ্টের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও একই গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে তারেক রহমান (২১)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ আগস্ট ধামইরহাট উপজেলার তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়, মরদেহটি খেলনা ইউনিয়নের হাসেন আলীর স্ত্রী মেরিনা বেগমের। তিনি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মেরিনা বেগমের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়ে না করলে বাবুলের বাড়িতে যাওয়ার কথা জানান তিনি। এ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবুলের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মেরিনা। পরে বিয়ের কথা বলে তাকে মোটরসাইকেলে করে আগ্রাদ্বিগুনের তালপুকুর সড়কের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিন্টুর নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাবুল হোসেন ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্টসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডে চারজন জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার দুজন ছাড়া অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মেরিনা বেগমের স্বামী হাসেন আলী ও ছেলে কাউসার আলী জীবিকার প্রয়োজনে কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন।



















