০৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় প্রায় ৭৩ টন শুল্কমুক্ত বন্ডেড কাগজসহ ১০ ট্রাক আটক: সিআইআইডির বড় অভিযান

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৫:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 31

পুরান ঢাকায় প্রায় ৭৩ টন শুল্কমুক্ত বন্ডেড কাগজসহ ১০ ট্রাক আটক

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকা থেকে ১০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১ এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তায় ছিল র‍্যাব-১০, পুলিশের লালবাগ বিভাগ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। চালানটিতে ভারতের ‘মেহালি পেপারস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে ‘শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেড’ (তেলিগাতি, কুয়েট, আড়ংঘাটা, খুলনা) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আমদানিকৃত প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন ডুপ্লেক্স বোর্ড ও অন্যান্য অসনাক্তকৃত পণ্য ছিল। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে খালাস হওয়া এসব পণ্যের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল ‘এম. এ. আজাদ অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ এবং পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘ডেলটা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস’।

চট্টগ্রাম থেকে খুলনাসূত্রীয় প্রচলিত বাইপাস রুট (কাঁচপুর → সাইনবোর্ড → পোস্তগোলা → মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে → পদ্মা সেতু → খুলনা) পরিহার করে নয়াবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ পাইকারি বাজারে প্রবেশ করায় গোপন সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়। তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি আড়তে এগুলো খালাস ও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। অভিযান চলাকালে কাস্টমস গোয়েন্দার উপস্থিতি টের পেয়ে নয়াবাজারমুখী বহরের একটি ট্রাক দ্রুত পালিয়ে যায়, তবে সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত পণ্য বিক্রির অপেক্ষায় থাকা অন্য একটি ট্রাকসহ মোট ১০টি ট্রাক সিআইআইডির নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত ও আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বন্ড সুবিধার শর্তানুযায়ী আমদানিকৃত কাঁচামাল অনুমোদিত কারখানায় ব্যবহার না করে খোলাবাজারে খালাস বা বিক্রি করা গুরুতর আইন লঙ্ঘন ও শুল্ক ফাঁকির সামিল। তবে সিআইআইডি জানিয়েছে, চূড়ান্ত তদন্ত, নথি যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের পরেই চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে ট্রাক ও পণ্যের বিস্তারিত তালিকা, সিলের অখণ্ডতা, পরিবহন চালান, বন্ড লাইসেন্সসহ সরকারি রাজস্ব ঝুঁকির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে কাস্টমস ও বন্ড আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার পেছনের পুরো চক্র ও আড়তদারদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান জারি রয়েছে।

13 September 2026

পুরান ঢাকায় প্রায় ৭৩ টন শুল্কমুক্ত বন্ডেড কাগজসহ ১০ ট্রাক আটক: সিআইআইডির বড় অভিযান

abc

পুরান ঢাকায় প্রায় ৭৩ টন শুল্কমুক্ত বন্ডেড কাগজসহ ১০ ট্রাক আটক: সিআইআইডির বড় অভিযান

আপডেট এর সময় : ০৫:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকা থেকে ১০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১ এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তায় ছিল র‍্যাব-১০, পুলিশের লালবাগ বিভাগ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। চালানটিতে ভারতের ‘মেহালি পেপারস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে ‘শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেড’ (তেলিগাতি, কুয়েট, আড়ংঘাটা, খুলনা) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আমদানিকৃত প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন ডুপ্লেক্স বোর্ড ও অন্যান্য অসনাক্তকৃত পণ্য ছিল। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে খালাস হওয়া এসব পণ্যের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল ‘এম. এ. আজাদ অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ এবং পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘ডেলটা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস’।

চট্টগ্রাম থেকে খুলনাসূত্রীয় প্রচলিত বাইপাস রুট (কাঁচপুর → সাইনবোর্ড → পোস্তগোলা → মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে → পদ্মা সেতু → খুলনা) পরিহার করে নয়াবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ পাইকারি বাজারে প্রবেশ করায় গোপন সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়। তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি আড়তে এগুলো খালাস ও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। অভিযান চলাকালে কাস্টমস গোয়েন্দার উপস্থিতি টের পেয়ে নয়াবাজারমুখী বহরের একটি ট্রাক দ্রুত পালিয়ে যায়, তবে সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত পণ্য বিক্রির অপেক্ষায় থাকা অন্য একটি ট্রাকসহ মোট ১০টি ট্রাক সিআইআইডির নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত ও আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বন্ড সুবিধার শর্তানুযায়ী আমদানিকৃত কাঁচামাল অনুমোদিত কারখানায় ব্যবহার না করে খোলাবাজারে খালাস বা বিক্রি করা গুরুতর আইন লঙ্ঘন ও শুল্ক ফাঁকির সামিল। তবে সিআইআইডি জানিয়েছে, চূড়ান্ত তদন্ত, নথি যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের পরেই চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে ট্রাক ও পণ্যের বিস্তারিত তালিকা, সিলের অখণ্ডতা, পরিবহন চালান, বন্ড লাইসেন্সসহ সরকারি রাজস্ব ঝুঁকির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে কাস্টমস ও বন্ড আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার পেছনের পুরো চক্র ও আড়তদারদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান জারি রয়েছে।

13 September 2026

পুরান ঢাকায় প্রায় ৭৩ টন শুল্কমুক্ত বন্ডেড কাগজসহ ১০ ট্রাক আটক: সিআইআইডির বড় অভিযান