১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব বাড়াতে করদাতাদের সমন্বিত প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ এনবিআরের

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৫:৩২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 54

কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব বাড়াতে করদাতাদের সমন্বিত প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ এনবিআরের

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ফাঁকি শনাক্ত ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে করদাতার আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি করদাতার একটি সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে, যেখানে আয়কর রিটার্নে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়, গাড়ি কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে। এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, করদাতার আয়-ব্যয়ের মধ্যে বড় অসামঞ্জস্য কিংবা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের গরমিল পাওয়া গেলে তাদের উচ্চঝুঁকির তালিকায় রাখা হবে এবং পরবর্তীতে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও কর নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনবিআরের কর্মকর্তারা রাজস্ব সংস্কারের এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই সমন্বিত প্রোফাইল ও শক্তিশালী আয়কর উপাত্তভান্ডার স্থাপনের পাশাপাশি উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক প্রোফাইল তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যক্তিপর্যায়ের পাশাপাশি করপোরেট খাতেও একই ধরনের ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে কোম্পানির মোট লেনদেনের বিপরীতে ঘোষিত মুনাফা, মোট মুনাফার হার, সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন, সুদের ব্যয়, রয়্যালটি, অবচয় এবং আমদানিপণ্যের মূল্যের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে বিক্রির অসামঞ্জস্য যাচাই করা হবে। এছাড়া বাণিজ্য জালিয়াতি ও বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থপাচার ঠেকাতে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কাস্টমস অ্যাটাশে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সম্পত্তিভিত্তিক আয়কর পরিপালন কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি থেকে আসা আয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। করদাতা ও কর কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ কমাতে ধাপে ধাপে অনলাইনভিত্তিক কর নির্ধারণ, ইলেকট্রনিক নিরীক্ষা এবং অটোমেটেড কর ফেরত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআরের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসের মধ্যে কর শনাক্তকরণ নম্বরের (TIN) তথ্যভান্ডার পরিশোধন, শীর্ষ বকেয়া করদাতা ও উচ্চঝুঁকির ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান শনাক্তের কাজ করা হবে। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে উচ্চ সম্পদশালী করদাতাদের জন্য পৃথক ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে করদাতাদের ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি, যানবাহন ও কোম্পানির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয় আয়-সম্পদ প্রোফাইল তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রি-ফিল্ড বা পূর্বেই পূরণ করা আয়কর রিটার্ন, অনলাইনভিত্তিক কর নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক কর নির্ধারণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ, যা স্বল্পমেয়াদে আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ মনে করেন, এসব যুগোপযোগী প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব খাতে ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে।

31 October 2026

কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব বাড়াতে করদাতাদের সমন্বিত প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ এনবিআরের

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব বাড়াতে করদাতাদের সমন্বিত প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ এনবিআরের

আপডেট এর সময় : ০৫:৩২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ফাঁকি শনাক্ত ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে করদাতার আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি করদাতার একটি সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে, যেখানে আয়কর রিটার্নে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়, গাড়ি কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে। এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, করদাতার আয়-ব্যয়ের মধ্যে বড় অসামঞ্জস্য কিংবা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের গরমিল পাওয়া গেলে তাদের উচ্চঝুঁকির তালিকায় রাখা হবে এবং পরবর্তীতে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও কর নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনবিআরের কর্মকর্তারা রাজস্ব সংস্কারের এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই সমন্বিত প্রোফাইল ও শক্তিশালী আয়কর উপাত্তভান্ডার স্থাপনের পাশাপাশি উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক প্রোফাইল তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যক্তিপর্যায়ের পাশাপাশি করপোরেট খাতেও একই ধরনের ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে কোম্পানির মোট লেনদেনের বিপরীতে ঘোষিত মুনাফা, মোট মুনাফার হার, সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন, সুদের ব্যয়, রয়্যালটি, অবচয় এবং আমদানিপণ্যের মূল্যের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে বিক্রির অসামঞ্জস্য যাচাই করা হবে। এছাড়া বাণিজ্য জালিয়াতি ও বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থপাচার ঠেকাতে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কাস্টমস অ্যাটাশে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সম্পত্তিভিত্তিক আয়কর পরিপালন কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি থেকে আসা আয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। করদাতা ও কর কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ কমাতে ধাপে ধাপে অনলাইনভিত্তিক কর নির্ধারণ, ইলেকট্রনিক নিরীক্ষা এবং অটোমেটেড কর ফেরত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআরের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসের মধ্যে কর শনাক্তকরণ নম্বরের (TIN) তথ্যভান্ডার পরিশোধন, শীর্ষ বকেয়া করদাতা ও উচ্চঝুঁকির ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান শনাক্তের কাজ করা হবে। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে উচ্চ সম্পদশালী করদাতাদের জন্য পৃথক ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে করদাতাদের ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি, যানবাহন ও কোম্পানির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয় আয়-সম্পদ প্রোফাইল তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রি-ফিল্ড বা পূর্বেই পূরণ করা আয়কর রিটার্ন, অনলাইনভিত্তিক কর নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক কর নির্ধারণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ, যা স্বল্পমেয়াদে আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ মনে করেন, এসব যুগোপযোগী প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব খাতে ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে।

31 October 2026

কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব বাড়াতে করদাতাদের সমন্বিত প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ এনবিআরের