১১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগে নতুন আশা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাড়ছে আগ্রহ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৬:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 66

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগে নতুন আশা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাড়ছে আগ্রহ

জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় দেশের বাজার সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে জাপানি কোম্পানিগুলো। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা। সম্প্রতি বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ ছিল। জেট্রোর ২০২৫ অর্থবছরের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত ৯৪.৪ শতাংশ জাপানি কোম্পানি এই অস্থিতিশীলতাকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এখন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে সম্প্রতি টোকিও ও সিঙ্গাপুর থেকে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের প্রবণতাও বেড়েছে।

তবে কাজুইকি কাতাওকা সতর্ক করে বলেন, কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ বাড়বে না; বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক পরিবেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে করব্যবস্থা ও শুল্ক ছাড়করণ সহজ করা, দ্রুত লাইসেন্স ও অনুমতি প্রদান এবং আইন-বিধানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও জাপানের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রচলিত কেবল ‘উন্নয়ন সহযোগিতা’ বা ‘একমুখী বিনিয়োগে’ সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি। এই প্রক্রিয়ায় তিনি জাপানে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকেও স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা এবং অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার, বিশেষ করে ঢাকাকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলোর আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) তথ্যমতে, দেশের জিডিপির প্রায় ৪৬ শতাংশ অবদান ঢাকার এবং এখানকার মাথাপিছু আয় ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। রাজধানীতে মানসম্মত সেবা, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠার মাধ্যমে উচ্চমানের পণ্যের চাহিদা স্পষ্ট হচ্ছে। দেশে তুলনামূলক উচ্চ শুল্কহার থাকায় কেবল পণ্য রপ্তানি না করে স্থানীয় উৎপাদন ও স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। দেশের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা, বিশাল জনসংখ্যা ও স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ মিলেই আগামীতে জাপানি বিনিয়োগের এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তবে তার জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন আবশ্যক।

13 September 2026

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগে নতুন আশা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাড়ছে আগ্রহ

abc

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগে নতুন আশা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাড়ছে আগ্রহ

আপডেট এর সময় : ০৬:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় দেশের বাজার সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে জাপানি কোম্পানিগুলো। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা। সম্প্রতি বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ ছিল। জেট্রোর ২০২৫ অর্থবছরের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত ৯৪.৪ শতাংশ জাপানি কোম্পানি এই অস্থিতিশীলতাকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এখন কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে সম্প্রতি টোকিও ও সিঙ্গাপুর থেকে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের প্রবণতাও বেড়েছে।

তবে কাজুইকি কাতাওকা সতর্ক করে বলেন, কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ বাড়বে না; বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক পরিবেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে করব্যবস্থা ও শুল্ক ছাড়করণ সহজ করা, দ্রুত লাইসেন্স ও অনুমতি প্রদান এবং আইন-বিধানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও জাপানের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রচলিত কেবল ‘উন্নয়ন সহযোগিতা’ বা ‘একমুখী বিনিয়োগে’ সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি। এই প্রক্রিয়ায় তিনি জাপানে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকেও স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা এবং অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার, বিশেষ করে ঢাকাকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলোর আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) তথ্যমতে, দেশের জিডিপির প্রায় ৪৬ শতাংশ অবদান ঢাকার এবং এখানকার মাথাপিছু আয় ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। রাজধানীতে মানসম্মত সেবা, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠার মাধ্যমে উচ্চমানের পণ্যের চাহিদা স্পষ্ট হচ্ছে। দেশে তুলনামূলক উচ্চ শুল্কহার থাকায় কেবল পণ্য রপ্তানি না করে স্থানীয় উৎপাদন ও স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। দেশের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা, বিশাল জনসংখ্যা ও স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ মিলেই আগামীতে জাপানি বিনিয়োগের এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তবে তার জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন আবশ্যক।

13 September 2026

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগে নতুন আশা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাড়ছে আগ্রহ