১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমির বিরোধে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা, গ্রেফতার ৪

Din Islam
  • আপডেট এর সময় : ০৬:২৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 12

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর কদমতলীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর)দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, মনজুরুল ইসলাম, ইকবাল, কালু, আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন।

মল্লিক আহসান বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলী থানার জিয়া সরণির মেসার্স লাকি ক্রোকারিজে ঢুকে দোকানের মালিক মোহাম্মদ আসলাম খানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে এক ব্যক্তি। গুলি ভুক্তভোগী আসলাম খানের মুখের ডান পাশ ও বাম হাতের কনুইতে লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মনজুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রিভলভার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি, একটি পিস্তল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করে পুলিশ। মনজুরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল ও কালুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে মোট ছয়জন ছিল। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গ্রেফতারকৃত সোনিয়া ইয়াসমিন ও রুনিয়া অস্ত্রের ক্যারিয়ার (বাহক) হিসেবে কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ভ্যানিটি ব্যাগে করে অস্ত্র ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। হামলার আগে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। উত্তরখান থেকে অস্ত্র নিয়ে এসে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সবাই একত্রিত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে যায় চক্রটি।

এসময় হত্যাচেষ্টার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তে হামলার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী আসলাম খান ও তার সহযোগীদের কেনা একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জলিল মণ্ডলের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালতের রায় পান আসলাম খান। পরে গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মণ্ডলকে উচ্ছেদ করে আসলাম খানকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নয়; প্রাথমিক তদন্তে আসলাম খানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করা হয়েছিল। খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলার সময় আসলাম খানও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুজন এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মূল ব্যক্তি জলিল মণ্ডলকে গ্রেফতার অভিযান চলছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছে এবং হামলার নেপথ্যে আর কারা ছিল তদন্ত করে বের করা হবে বলেও জানান তিনি।

13 September 2026

জমির বিরোধে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা, গ্রেফতার ৪

ট্যাগ :
abc

জমির বিরোধে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা, গ্রেফতার ৪

আপডেট এর সময় : ০৬:২৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর কদমতলীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর)দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, মনজুরুল ইসলাম, ইকবাল, কালু, আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন।

মল্লিক আহসান বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলী থানার জিয়া সরণির মেসার্স লাকি ক্রোকারিজে ঢুকে দোকানের মালিক মোহাম্মদ আসলাম খানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে এক ব্যক্তি। গুলি ভুক্তভোগী আসলাম খানের মুখের ডান পাশ ও বাম হাতের কনুইতে লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মনজুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রিভলভার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি, একটি পিস্তল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করে পুলিশ। মনজুরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল ও কালুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে মোট ছয়জন ছিল। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গ্রেফতারকৃত সোনিয়া ইয়াসমিন ও রুনিয়া অস্ত্রের ক্যারিয়ার (বাহক) হিসেবে কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ভ্যানিটি ব্যাগে করে অস্ত্র ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। হামলার আগে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। উত্তরখান থেকে অস্ত্র নিয়ে এসে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সবাই একত্রিত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে যায় চক্রটি।

এসময় হত্যাচেষ্টার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তে হামলার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী আসলাম খান ও তার সহযোগীদের কেনা একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জলিল মণ্ডলের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালতের রায় পান আসলাম খান। পরে গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মণ্ডলকে উচ্ছেদ করে আসলাম খানকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নয়; প্রাথমিক তদন্তে আসলাম খানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করা হয়েছিল। খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলার সময় আসলাম খানও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুজন এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মূল ব্যক্তি জলিল মণ্ডলকে গ্রেফতার অভিযান চলছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছে এবং হামলার নেপথ্যে আর কারা ছিল তদন্ত করে বের করা হবে বলেও জানান তিনি।

13 September 2026

জমির বিরোধে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা, গ্রেফতার ৪