ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ১২০ কোটি টাকার ব্যাংক আমানত নিয়ে নিরীক্ষকের সংশয়: ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে বিপুল বিনিয়োগ
- আপডেট এর সময় : ০২:৫৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ১২০ কোটি টাকার ব্যাংক আমানত নিয়ে নিরীক্ষকের সংশয়: ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে বিপুল বিনিয়োগ
তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সম্পদের সঠিক মূল্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোম্পানিটির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা প্রায় ১২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) অস্তিত্ব ও প্রকৃত মূল্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে ব্যর্থ হয়েছেন নিরীক্ষক। এই আমানত কোম্পানিটির নগদ সম্পদের প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং মোট সম্পদের অর্ধেকের সমপরিমাণ। নথিপত্রের ঘাটতির কারণে বীমা দাবি, প্রিমিয়াম আয়, গ্র্যাচুইটি দায় ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের হিসাবও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে আর্থিকভাবে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি ব্যাংকে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি। এই অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থাকলেও কোম্পানিটি সম্ভাব্য লোকসান বা ‘ইমপেয়ারমেন্ট প্রভিশন’ হিসেবে কোনো টাকা আলাদা করে রাখেনি। ফলে কাগজে-কলমে সম্পদের পরিমাণ বাস্তবের চেয়ে বেশি দেখানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপরন্তু, এসব দুর্বল ব্যাংক থেকে অর্জিত ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সুদ আয় হিসেবে দেখালেও তা আদৌ আদায়যোগ্য কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।
ব্যাংক আমানতের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে করা বিনিয়োগেও বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়েছে। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পুঁজিবাজারে নিজেদের বিনিয়োগ থেকে হওয়া প্রায় ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকার অনাদায়ী লোকসান যথাযথভাবে হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এছাড়া কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ রেকর্ডের সাথে বাস্তবে অর্জিত মূল্যের উল্লেখযোগ্য গরমিল পাওয়া গেছে। আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএফআরএস) ও প্রচলিত আইন ভঙ্গের বিষয়গুলোও নিরীক্ষায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উত্থাপিত এসব বিষয়ের জবাবে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাসান তারেক জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক থেকে তথ্য যাচাইয়ের উত্তর না আসায় নিরীক্ষক এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তবে পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ ব্যাংকের আমানত প্রসঙ্গে তিনি এটিকে পুরো দেশের একটি সার্বিক সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তাদের এককভাবে খুব বেশি কিছু করার ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের একটি বড় অংশের সত্যতা যাচাই না হওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




















