০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০২:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছর অস্বাভাবিক শক্তিশালী প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’র প্রভাবে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ দাবদাহ, খরা, দাবানল ও চরম পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রাজনিত কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাব ফেব্রুয়ারি নাগাদ কমলেও গরমের এই ভয়াবহ ঝুঁকি আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত বজায় থাকবে। গত তিন দশকের তাপমাত্রার তথ্য ও ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ধনী দেশগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মান ভালো থাকায় ঝুঁকি কম হলেও, দরিদ্র ও ইতিমধ্যে উষ্ণ অঞ্চলে এই প্রভাব অতিমাত্রায় মারাত্মক হয়ে উঠছে।

এই বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিকার হতে যাচ্ছে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলো। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের ‘সাহেল অঞ্চল’-এ সর্বোচ্চ ৬৬,৮০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়—যেমন ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে ১৯,৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯,৩০০ জন; ভারতে ১৫,৮০০ জন এবং ব্রাজিলে ১৩,৩০০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি দাবদাহের দিন তৈরি হতে পারে এবং এতে স্থলভাগের তাপমাত্রা গড়ে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে আজ থেকে ২০ বছর পরের স্বাভাবিক পৃথিবীর জলবায়ুর একটি অগ্রিম বার্তা হিসেবে দেখছেন।

এই বিপর্যয় মোকাবিলায় ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বিশ্বনেতাদের ও সরকারগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা, শীতলীকরণ কেন্দ্র ও খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানের শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স্কদের জন্য বাড়তি নজরদারি। একই সাথে চরম পরিস্থিতি আসার আগেই অর্থ ছাড়ের জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’-এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি উল্লেখ করেছেন, এই প্রতিবেদন কোনো আতঙ্কের বার্তা নয়, বরং দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার একটি তাগিদ। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এবং এল নিনোর জোড়া ধাক্কায় তৈরি এই সংকট থেকে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

24 September 2026

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা

আপডেট এর সময় : ০২:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছর অস্বাভাবিক শক্তিশালী প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’র প্রভাবে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ দাবদাহ, খরা, দাবানল ও চরম পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রাজনিত কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাব ফেব্রুয়ারি নাগাদ কমলেও গরমের এই ভয়াবহ ঝুঁকি আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত বজায় থাকবে। গত তিন দশকের তাপমাত্রার তথ্য ও ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ধনী দেশগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মান ভালো থাকায় ঝুঁকি কম হলেও, দরিদ্র ও ইতিমধ্যে উষ্ণ অঞ্চলে এই প্রভাব অতিমাত্রায় মারাত্মক হয়ে উঠছে।

এই বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিকার হতে যাচ্ছে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলো। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের ‘সাহেল অঞ্চল’-এ সর্বোচ্চ ৬৬,৮০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়—যেমন ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে ১৯,৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯,৩০০ জন; ভারতে ১৫,৮০০ জন এবং ব্রাজিলে ১৩,৩০০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি দাবদাহের দিন তৈরি হতে পারে এবং এতে স্থলভাগের তাপমাত্রা গড়ে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে আজ থেকে ২০ বছর পরের স্বাভাবিক পৃথিবীর জলবায়ুর একটি অগ্রিম বার্তা হিসেবে দেখছেন।

এই বিপর্যয় মোকাবিলায় ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বিশ্বনেতাদের ও সরকারগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা, শীতলীকরণ কেন্দ্র ও খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানের শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স্কদের জন্য বাড়তি নজরদারি। একই সাথে চরম পরিস্থিতি আসার আগেই অর্থ ছাড়ের জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’-এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি উল্লেখ করেছেন, এই প্রতিবেদন কোনো আতঙ্কের বার্তা নয়, বরং দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার একটি তাগিদ। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এবং এল নিনোর জোড়া ধাক্কায় তৈরি এই সংকট থেকে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

24 September 2026

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা