ভারতে ইসি প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে জেন-জি ও বিরোধীদের নজিরবিহীন আন্দোলন
- আপডেট এর সময় : ০২:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দেশটিতে তরুণ প্রজন্ম (জেন-জি) ও বিরোধী দলগুলোর যৌথ আন্দোলন এক অভূতপূর্ব রূপ নিয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে, অপর দুই কমিশনারের আপত্তি সত্ত্বেও ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়, যার নেপথ্যে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এই প্রক্রিয়ায় ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে দাবি উঠেছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ফর্ম সিক্স-এ আনা পরিবর্তন অনুমোদন না দেওয়ার কথা জানালে, নির্বাচন কমিশনের আগের প্রেস নোটের দাবি নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়।
ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াইয়ে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সদ্য গঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের সমাবেশে প্রচুর তরুণ যোগ দেন এবং সিইসির পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান তোলেন। অন্যদিকে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোও এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। গত ৬ অক্টোবর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে দিল্লি নির্বাচন কমিশন দফতরের কাছে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের আটক করে। রাহুল গান্ধী এই পুরো ঘটনাকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে আখ্যা দেন। বিপরীত পক্ষে, বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদী বিরোধীদের এই দাবিকে সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন জানায় যে সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য বিকল্প কর্মকর্তা পাঠানোর প্রস্তাব নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক আমলাদের মতে, সাংবিধানিক কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে তরুণ সমাজের এমন ক্ষোভ ১৯৭৪ সালের জয়প্রকাশ নারায়ণের (জেপি) আন্দোলনের পর আর দেখা যায়নি। ভোটার তালিকার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক সংকটের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, যার গভীর প্রভাব দেশটির আগামী নির্বাচনগুলোতে পড়তে পারে।




















