নওগাঁয় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: ব্যাংকের তিন কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬
- আপডেট এর সময় : ০৪:২৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 9
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া ব্যাংকের ওই তিন কর্মী ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যরা টাকার অবস্থান জেনে ছিনতাইয়ে অংশ নেন।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাণীনগর থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ সাতটি মুঠোফোন এবং ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাণীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের স্বপন (২৮) ও হাসান আলী (২৫), অলংকারদিঘী গ্রামের সুজন (২৭), রাসেল বাবু (২২) ও রাব্বি আলী (২৮) এবং শিমলাদার গ্রামের আবু তালেব (২৭)। তাঁদের মধ্যে সুজন ও আবু তালেব ইসলামী ব্যাংকের আবাদপুকুর এজেন্ট শাখার ঋণ কর্মকর্তা এবং রাসেল বাবু অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, ব্যাংকের ওই তিন কর্মী কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে জুয়ায় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। প্রায় এক মাস প্রস্তুতির পর গত ৬ অক্টোবর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে এজেন্ট শাখার মালিক ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নেন। এরপর মোটরসাইকেলে করে আবাদপুকুর বাজারের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁরা রাণীনগরের পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথরোধ করে। পরে লোহার রড দিয়ে দুজনকে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ক্যাশিয়ার নাজমুল গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন রাতেই প্রাথমিক সূত্র পাওয়া যায়। পরে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটির মালিক রাণীনগরের অলংকারদিঘী গ্রামের রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার অলংকারদিঘী ও শিমলাদার গ্রামে অভিযান চালিয়ে ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব এবং অফিস সহায়ক রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে তাঁদের অবস্থানের তথ্য দিতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যরা মোটরসাইকেলে এসে তাঁদের পথরোধ করেন। পুলিশের দাবি, ক্যাশিয়ার নাজমুল প্রকৃত ভুক্তভোগী হলেও রাসেল বাবু ঘটনাটিকে ছিনতাই হিসেবে উপস্থাপনের পরিকল্পনার অংশ ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান এবং রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মণ্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















