সরকার গঠনের পথে আইজেনকট কে সমর্থন জানালেন আইনপ্রণেতা
- আপডেট এর সময় : ১২:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথে বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি পেয়েছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। দেশটির ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ জন সদস্য তাকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। তবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সুপারিশ পেলেও আইজেনকটের সরকার গঠন এখনো নিশ্চিত নয়। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের নিয়ে কার্যকর জোট গঠন করা কঠিন হতে পারে।
ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির ২৬তম নেসেটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের দুই দিনের আলোচনার পর এই সমর্থনের হিসাব সামনে আসে। বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির থেকে। এর মধ্যে রয়েছে নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যানের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি দল এবং আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। বিশেষ করে জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সমর্থন আইজেনকটের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধীদের প্রচেষ্টায় এই সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো নেতাকে সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ করা আর সেই নেতার সরকারে যোগ দিতে সম্মত হওয়া এক বিষয় নয়। জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, তারা আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে। অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিকভাবে জোট সরকারের অংশ না হয়েও তারা সরকারকে সমর্থন দিতে পারে।
এই পার্থক্যই আইজেনকটের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে টিকে থাকতে সাধারণত অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জনের সুপারিশ থাকায় সংখ্যার হিসাবে তিনি এই সীমা অতিক্রম করেছেন। জয়েন্ট লিস্টের ১১ জন সদস্যের সমর্থন তাঁকে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার হতে সাহায্য করেছে। আট আসনের রা’আমও তার পক্ষে সুপারিশ করেছে। কিন্তু এই ৬৭ জন আইনপ্রণেতা একই সরকারের অংশ হতে রাজি হবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ, আইজেনকটের পক্ষে থাকা দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক বিষয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এখনো নেসেটের একক বৃহত্তম দল। দলটির আসনসংখ্যা ২৭। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বৃহত্তর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছিল। ফলে তারাও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আইজেনকটের প্রধান কাজ হবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় পাওয়া সমর্থনকে একটি স্থায়ী সরকার গঠনের চুক্তিতে রূপ দেওয়া। এদিকে রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেও নেতানিয়াহু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হারাননি। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট হারজগও সতর্ক করে বলেছেন, শুধু সমর্থনের সংখ্যা দিয়ে কে সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি এবং বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে পরিস্থিতি সংখ্যার হিসাবের চেয়ে জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের সরকার গঠনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যাকে দায়িত্ব দেবেন, তিনি সাধারণত সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময় আরো ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। প্রথম ব্যক্তি সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো আইনপ্রণেতাকে সেই সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কেউ সরকার গঠন করতে না পারলে দেশটিতে আবার নির্বাচন হতে পারে। ফলে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা এবং পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য আইজেনকটের হাতে সময় সীমিত। এদিকে আইজেনকটের দল ইয়াশার প্রেসিডেন্ট হারজগের প্রতি দ্রুত তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির দাবি, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট জনমতের প্রতিফলন। দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর এবং নতুন সরকার গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনাসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। আঞ্চলিক সংঘাত আরো বাড়লে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে বৃহত্তর সরকার গঠনের চাপ তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় সমর্থনের হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকট। কিন্তু ভিন্নমতের দলগুলোকে একত্র করে স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নেতানিয়াহু সমর্থনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়লেও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আইজেনকট এই সমর্থনকে কার্যকর সরকারে রূপ দিতে পারেন কি না, তার ওপর। প্রেসিডেন্ট হারজগ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরো আলোচনা করবেন। আগামী রোববার, ৮ নভেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে।



















