০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহায়নের নতুন নিয়মে ভ্যাট ও রেভিনিউ আদায়ে পতন।

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৯:১৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 231

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে লিজ দলিল প্রথা বাতিল করে সাফকবলা দলিল চালু করার পর সংস্থাটির কার্যক্রমে জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে একই সঙ্গে রেভিনিউ ও ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গৃহায়নের কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে সাফকবলা দলিল চালু হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে আর কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে না।আগে নামজারি, হস্তান্তর, বন্ধক, সেল পারমিশন, যৌথ নির্মাণ, পুনর্বাসন, আমমোক্তার নিয়োগ, কনভারসেশন, একত্রীকরণসহ ২০ থেকে ২৪ ধরনের কাজের জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ফি দিতে হতো। কিন্তু নতুন আইনে এসব ফি বাতিল করা হয়েছে। এখন শুধু সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমা দিতে হয়। সাফকবলা দলিল, মালিকানা পরিবর্তন, দান, ব্যাংক ঋণ বা বন্ধকের ক্ষেত্রে কোনো ফি দিতে হচ্ছে না। ফলে সেবাগ্রহীতাদের আর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে আসার প্রয়োজন পড়ছে না এবং তাদের ভোগান্তি বহু গুণে কমেছে।
এতে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গৃহায়নের হিসাব শাখা জানিয়েছে, আগে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা নন-ট্যাক্স রেভিনিউ জমা হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪ কোটিতে। সর্বশেষ তিন মাসে মোট জমা হয়েছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৮ কোটি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৫ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি টাকা জমা হয়েছে। মোট হিসাবে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।
একইভাবে আবাসিক প্লট বাণিজ্যিক করার ক্ষেত্রে আগে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত কনভারসেশন ফি দিতে হতো। এখন নতুন নিয়মে এ ধরনের কোনো ফি বা অনুমতির প্রয়োজন না থাকায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, অনুমতি ছাড়াই রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি নিবন্ধন হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারের পক্ষে জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ভবন থাকা সত্ত্বেও খালি জমি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ ও আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়ছে।

15 September 2026

গৃহায়নের নতুন নিয়মে ভ্যাট ও রেভিনিউ আদায়ে পতন।

abc

গৃহায়নের নতুন নিয়মে ভ্যাট ও রেভিনিউ আদায়ে পতন।

আপডেট এর সময় : ০৯:১৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে লিজ দলিল প্রথা বাতিল করে সাফকবলা দলিল চালু করার পর সংস্থাটির কার্যক্রমে জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে একই সঙ্গে রেভিনিউ ও ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গৃহায়নের কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে সাফকবলা দলিল চালু হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে আর কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে না।আগে নামজারি, হস্তান্তর, বন্ধক, সেল পারমিশন, যৌথ নির্মাণ, পুনর্বাসন, আমমোক্তার নিয়োগ, কনভারসেশন, একত্রীকরণসহ ২০ থেকে ২৪ ধরনের কাজের জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ফি দিতে হতো। কিন্তু নতুন আইনে এসব ফি বাতিল করা হয়েছে। এখন শুধু সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমা দিতে হয়। সাফকবলা দলিল, মালিকানা পরিবর্তন, দান, ব্যাংক ঋণ বা বন্ধকের ক্ষেত্রে কোনো ফি দিতে হচ্ছে না। ফলে সেবাগ্রহীতাদের আর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে আসার প্রয়োজন পড়ছে না এবং তাদের ভোগান্তি বহু গুণে কমেছে।
এতে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গৃহায়নের হিসাব শাখা জানিয়েছে, আগে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা নন-ট্যাক্স রেভিনিউ জমা হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪ কোটিতে। সর্বশেষ তিন মাসে মোট জমা হয়েছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৮ কোটি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৫ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি টাকা জমা হয়েছে। মোট হিসাবে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।
একইভাবে আবাসিক প্লট বাণিজ্যিক করার ক্ষেত্রে আগে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত কনভারসেশন ফি দিতে হতো। এখন নতুন নিয়মে এ ধরনের কোনো ফি বা অনুমতির প্রয়োজন না থাকায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, অনুমতি ছাড়াই রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি নিবন্ধন হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারের পক্ষে জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ভবন থাকা সত্ত্বেও খালি জমি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ ও আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়ছে।

15 September 2026

গৃহায়নের নতুন নিয়মে ভ্যাট ও রেভিনিউ আদায়ে পতন।