কাস্টমস বন্ডে চার বছর ধরে ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের নথির হদিস নেই: রাজস্ব আদায়ে জটিলতা, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
- আপডেট এর সময় : ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটে ভাগ হওয়ার চার বছর পার হলেও ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন ৮৯৩টি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের কোনো সন্ধান মিলছে না। এসব হারিয়ে যাওয়া নথির মধ্যে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওনা-সংক্রান্ত নথিপত্রও রয়েছে, যা সরকারের প্রকৃত রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায় প্রক্রিয়াকে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। পাশাপাশি উত্তর বন্ডের নিজস্ব সংরক্ষণে থাকা আরও কিছু নথির খোঁজ মিলছে না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নথিপত্র না থাকার পেছনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অসৎ উদ্দেশ্য বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না—সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
রপ্তানি সেবা সহজীকরণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ২০২২ সালের আগস্টে ঢাকার বন্ড কমিশনারেট দ্বিখণ্ডিত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ গঠন করা হয়। সে সময় উত্তর বন্ডের অধীন ২,৬০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দক্ষিণ বন্ড থেকে ১,৭১৫টির নথি হস্তান্তরিত হলেও বাকি ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথি হস্তান্তর প্রক্রিয়া গত চার বছরে চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় রাজস্ব আদায় জোরদার করতে গিয়ে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনার ড. নাহিদা ফরিদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নথি নিখোঁজের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ বন্ডের বর্তমান কমিশনার মোহাম্মদ হাসমত আলী এই সংক্রান্ত নথি আটকে থাকার বিষয়ে তার অনবগতির কথা জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং হারিয়ে যাওয়া নথি উদ্ধারে ঢাকা উত্তর বন্ডের সহকারী কমিশনার মো. রিদুয়ান সরদারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অস্তিত্ব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সরকারের পাওনা হিসাব যাচাই করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দপ্তরটির শাখা সহকারীকে সব নথি হালনাগাদ করা ও সরেজমিনে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রায় এক দশক ধরে বন্ড ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা স্বয়ংক্রিয় না হওয়ায় নথি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।



















