জ্বালানি সংকটেও চালু তৈরি পোশাক খাত: পূর্ণাঙ্গ প্রভাব বুঝতে অপেক্ষা করতে হবে কয়েক মাস
- আপডেট এর সময় : ১২:২০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। তবে এই সংকটের প্রকৃত ক্ষতি ও সামগ্রিক প্রভাব বুঝতে আরও ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে। ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরা বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, একটি পোশাক কারখানা হঠাৎ করেই বন্ধ করা সম্ভব নয়; অর্ডার সম্পন্ন করা, শ্রমিকদের পাওনা ও ব্যাংকের দায় মেটাতে অন্তত ছয় মাসের পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বিগত দুই মাসে গ্যাসের কম চাপের কারণে ডাইং ও ওয়াশিংয়ের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলো মারাত্মক প্রভাবিত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বেশি সময় এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনা দিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দুই বছরের মধ্যে সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। এ ছাড়া নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি গ্যাস বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, এসএমই ও বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে স্বল্প সুদে ‘গ্রিন লোন’ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। কারখানাগুলোর ছাদে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ সুদের হার প্রধান বাধা হওয়ায় বিজিএমইএ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি ও বাজার প্রসারের স্বার্থে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিজিএমইএ। পাশাপাশি এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের তাগিদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে হংকংয়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য রোডশো আয়োজন এবং জাপানে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে ‘জাপান ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে জাপানমুখী পোশাক রপ্তানি ৫০ কোটি ডলার থেকে ২৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।



















