০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র-জনতা হত্যার নেপথ্যের খলনায়ক টিপু সুলতান, ক্লোজই কি শাস্তি!

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৯:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
  • / 1145

বিগত ১৬ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে সম্পদের সাগরে গা ভাসিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ক্ষমতার দাপটে অন্ধ কেউ কেউ চাকরিতে থাকাকালীন প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও। দুর্নীতি আর লুটপাটের প্রতিযোগিতায় কেউ আবার কুড়িয়েছেন চ্যাম্পিয়নের খেতাব। সব জেনেও স্বৈরাচী শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেয়া দুরের কথা উল্টো দুর্নীতিবাজদের দিতেন প্রশ্রয়। তাদেরই একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব একেএম টিপু সুলতান।


ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে আতংকের নাম ছিল এই টিপু সুলতান। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর -ভেড়ামারা) আসনের সাবেক সাংসদ কামারুল আরেফিনের সাথে দহরম মহরম সম্পর্কের কারণে সরকারী এই কর্মকর্তা পুরোপুরি আওয়ামী রঙে রাঙ্গিয়ে ছিলেন নিজেকে। এমনকি কামারুল আরেফিনের নির্বাচনে প্রকাশ্যে মাঠে দেখা যায় তাকে।
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন টিপু সুলতান নামের সাথে তাল মিলিয়ে সুলতানী জীবনযাপন করতেন। মিরপুর উপজেলায় নিজ গ্রামে বানিয়েছেন বিশাল রাজপ্রাসাদ। কয়েক কোটি টাকা খরচায় বানানো বাড়িটি সাজিয়েছেন দামি দামি আসবাবপত্র দিয়ে। রাজকীয় এই বাড়িটি তিনি উদ্বোধন করান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম হানিফকে দিয়ে।


অভিযোগ রয়েছে মিরপুরে ১৯৮৮ সালে ইউপি নির্বাচনে পোলিং অফিসারসহ ৪ জন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন টিপু সুলতান। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে তা ধামাচাপা দিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। এছাড়া,লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসক থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলিল জালিয়াতি ও দলিল ট্যাম্পারিং করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব করা হয় তাকে। এরপরও থামেনি বেপরোয়া টিপু সুলতানের দৌরাত্ব। দুর্নীতি ও বিভিন্ন অপকর্মে গড়তে থাকেন সম্পদের পাহাড়।


অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রামে একাধিক বাড়ি, গরুর খামার এবং বিপুল পরিমান জমি কিনেছেন তিনি।সেখানে একটি তিন তলা ও দুই তলা বাড়ির খোঁজও পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরে রয়েছে একটি তিন তলা বাড়ি।  গাজীপুরে নুহাশ পল্লীর কাছে গড়েছেন বিলাসবহুল বাংলো বাড়ির “বন বিলাস”। গাজীপুরের পিরুজালী এলাকায় রয়েছে একটি কীটনাশক ফ্যাক্টরি।  এছাড়া, স্ত্রী ও পরিবারের নামে কক্সবাজারে কিনেছেন দুটি ফ্ল্যাট। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের নামেও গড়েছেন সম্পদ। রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমান নগদ অর্থ ও সঞ্চয়। বিনিয়োগ রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগ রয়েছে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর -ভেড়ামারা) আসনের সাবেক সাংসদ কামারুল আরেফিনের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত এই টিপু সুলতান।
ধুর্ত এই সরকারী কর্মকর্তা নিজের অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি ফাউন্ডেশন। এছাড়া চাকরিরত অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠা করেন টিপু সুলতান কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট। ক্ষমতার দাপদে গাজীপুরের পিরুজালী এলাকায় তার কীটনাশক ফ্যাক্টরি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে বহাল তবিয়তে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার কালো টাকা রাতারাতি সাদা করেছেন।এছাড়া নিজের প্রভাব বিস্তারে এলাকায় রয়েছে তার বিশাল অনুসারী বাহিনী।স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব।
স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে ছাত্র জনতা হত্যার নেপথ্যে অগ্রণী ভুমিকার এ খলনায়ক সম্প্রতি চাকুরী হারালেও দৃশ্যমান কোন শাস্তি হয়নি তার। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বৈষম্যহীন স্বাধীন এই দেশে আওয়ামী দোসর টিপু সুলতান কিভাবে পার পেয়ে যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
অভিযোগের বিষয় একাধিক বার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তার মতামত পাওয়া যায়নি।

30 July 2026

ছাত্র-জনতা হত্যার নেপথ্যের খলনায়ক টিপু সুলতান, ক্লোজই কি শাস্তি!

ট্যাগ :
abc

ছাত্র-জনতা হত্যার নেপথ্যের খলনায়ক টিপু সুলতান, ক্লোজই কি শাস্তি!

আপডেট এর সময় : ০৯:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪

বিগত ১৬ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে সম্পদের সাগরে গা ভাসিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ক্ষমতার দাপটে অন্ধ কেউ কেউ চাকরিতে থাকাকালীন প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও। দুর্নীতি আর লুটপাটের প্রতিযোগিতায় কেউ আবার কুড়িয়েছেন চ্যাম্পিয়নের খেতাব। সব জেনেও স্বৈরাচী শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেয়া দুরের কথা উল্টো দুর্নীতিবাজদের দিতেন প্রশ্রয়। তাদেরই একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব একেএম টিপু সুলতান।


ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে আতংকের নাম ছিল এই টিপু সুলতান। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর -ভেড়ামারা) আসনের সাবেক সাংসদ কামারুল আরেফিনের সাথে দহরম মহরম সম্পর্কের কারণে সরকারী এই কর্মকর্তা পুরোপুরি আওয়ামী রঙে রাঙ্গিয়ে ছিলেন নিজেকে। এমনকি কামারুল আরেফিনের নির্বাচনে প্রকাশ্যে মাঠে দেখা যায় তাকে।
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন টিপু সুলতান নামের সাথে তাল মিলিয়ে সুলতানী জীবনযাপন করতেন। মিরপুর উপজেলায় নিজ গ্রামে বানিয়েছেন বিশাল রাজপ্রাসাদ। কয়েক কোটি টাকা খরচায় বানানো বাড়িটি সাজিয়েছেন দামি দামি আসবাবপত্র দিয়ে। রাজকীয় এই বাড়িটি তিনি উদ্বোধন করান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম হানিফকে দিয়ে।


অভিযোগ রয়েছে মিরপুরে ১৯৮৮ সালে ইউপি নির্বাচনে পোলিং অফিসারসহ ৪ জন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন টিপু সুলতান। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে তা ধামাচাপা দিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। এছাড়া,লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসক থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলিল জালিয়াতি ও দলিল ট্যাম্পারিং করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব করা হয় তাকে। এরপরও থামেনি বেপরোয়া টিপু সুলতানের দৌরাত্ব। দুর্নীতি ও বিভিন্ন অপকর্মে গড়তে থাকেন সম্পদের পাহাড়।


অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রামে একাধিক বাড়ি, গরুর খামার এবং বিপুল পরিমান জমি কিনেছেন তিনি।সেখানে একটি তিন তলা ও দুই তলা বাড়ির খোঁজও পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরে রয়েছে একটি তিন তলা বাড়ি।  গাজীপুরে নুহাশ পল্লীর কাছে গড়েছেন বিলাসবহুল বাংলো বাড়ির “বন বিলাস”। গাজীপুরের পিরুজালী এলাকায় রয়েছে একটি কীটনাশক ফ্যাক্টরি।  এছাড়া, স্ত্রী ও পরিবারের নামে কক্সবাজারে কিনেছেন দুটি ফ্ল্যাট। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের নামেও গড়েছেন সম্পদ। রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমান নগদ অর্থ ও সঞ্চয়। বিনিয়োগ রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগ রয়েছে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর -ভেড়ামারা) আসনের সাবেক সাংসদ কামারুল আরেফিনের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত এই টিপু সুলতান।
ধুর্ত এই সরকারী কর্মকর্তা নিজের অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি ফাউন্ডেশন। এছাড়া চাকরিরত অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠা করেন টিপু সুলতান কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট। ক্ষমতার দাপদে গাজীপুরের পিরুজালী এলাকায় তার কীটনাশক ফ্যাক্টরি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে বহাল তবিয়তে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার কালো টাকা রাতারাতি সাদা করেছেন।এছাড়া নিজের প্রভাব বিস্তারে এলাকায় রয়েছে তার বিশাল অনুসারী বাহিনী।স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব।
স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে ছাত্র জনতা হত্যার নেপথ্যে অগ্রণী ভুমিকার এ খলনায়ক সম্প্রতি চাকুরী হারালেও দৃশ্যমান কোন শাস্তি হয়নি তার। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বৈষম্যহীন স্বাধীন এই দেশে আওয়ামী দোসর টিপু সুলতান কিভাবে পার পেয়ে যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
অভিযোগের বিষয় একাধিক বার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তার মতামত পাওয়া যায়নি।

30 July 2026

ছাত্র-জনতা হত্যার নেপথ্যের খলনায়ক টিপু সুলতান, ক্লোজই কি শাস্তি!