বিসিকের ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন: নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা
- আপডেট এর সময় : ০১:১৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) তাদের মূল উদ্দেশ্য—নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ঋণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিল্পনগরী স্থাপনের লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড় ধরনের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ এই পরিকল্পনার কথা জানান। ১৯৫৭ সালে ‘ইপসিক’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই সংস্থাটি শিল্পায়নকে কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।
বর্তমানে দেশের ৮৪টি শিল্পনগরী ও পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বন্ধ ও রুগ্ন কারখানা চালু, খালি প্লট বরাদ্দ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ষাটের দশকে তৈরি অধিকাংশ শিল্পনগরীর সড়ক ভারী যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দুর্বল। পাশাপাশি দুর্বল সীমানা প্রাচীর, সিসিটিভি এবং আলোর ঘাটতির মতো নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিসিকের আওতাধীন ৬ হাজার ২২৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে কারখানাগুলো রুগ্ন বা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৩টি বন্ধ কারখানা উৎপাদনে ফেরানো হয়েছে। একই সঙ্গে খালি থাকা ১,৬০০টিরও বেশি প্লট বরাদ্দের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে নতুন শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতের বড় অবদান রয়েছে। বিসিকের অধীনস্থ কারখানাগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শুধু প্লট বরাদ্দ নয়, বরং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সহায়তার মাধ্যমে সংস্থাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিল্প সহায়ক প্রতিষ্ঠান’ বানাতে চান বিসিক চেয়ারম্যান। আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নিরাপদ ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং রপ্তানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।




















