০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে দুর্নীতি: সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দাবি

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০১:২৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / 182

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, স্বর্ণ চোরাচালান ও শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সাবেক ডেপুটি কমিশনার আরজিনা খাতুন বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আমদানি পণ্য খালাসের নামে ঘুষ গ্রহণ, স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অবৈধ সম্পদের পাহাড়
অভিযোগ অনুসারে, আরজিনা খাতুন বিভিন্ন সময়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ছয় কোটি টাকার স্বর্ণ ক্রয় করেছেন। এই স্বর্ণ রাজধানীর একাধিক জুয়েলারি দোকান থেকে কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তিনি ঢাকা মিরপুরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক, যার ক্রয়মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। ফ্ল্যাটটির ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্রের জন্য অতিরিক্ত ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এছাড়া, তার নামে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলেও সেটি সিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি ‘অ্যানবি লজিস্টিকস লিমিটেড’-এর নামে নিবন্ধিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে তার বাবার নামে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
ব্যাংক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
সূত্র জানায়, আরজিনা খাতুনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবেও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ির নিকটাত্মীয়ের ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ) মাধ্যমে তিনি অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের পিয়ন মো. ইলিয়াস ও গাড়ি চালক শাহজাহান আক্তারকে ব্যবহার করে তিনি ঘুষের টাকা আদান-প্রদান করতেন।
দুর্নীতির এই চক্রে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে কর্মরত কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।
উল্লেখিত বিষয়গুলো দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, সঠিক তদন্ত হলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ও ভ্যাট বিভাগে চলমান দুর্নীতির একটি চিত্র স্পষ্ট হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

27 July 2026

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে দুর্নীতি: সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দাবি

abc

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে দুর্নীতি: সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দাবি

আপডেট এর সময় : ০১:২৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, স্বর্ণ চোরাচালান ও শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সাবেক ডেপুটি কমিশনার আরজিনা খাতুন বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আমদানি পণ্য খালাসের নামে ঘুষ গ্রহণ, স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অবৈধ সম্পদের পাহাড়
অভিযোগ অনুসারে, আরজিনা খাতুন বিভিন্ন সময়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ছয় কোটি টাকার স্বর্ণ ক্রয় করেছেন। এই স্বর্ণ রাজধানীর একাধিক জুয়েলারি দোকান থেকে কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তিনি ঢাকা মিরপুরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক, যার ক্রয়মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। ফ্ল্যাটটির ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্রের জন্য অতিরিক্ত ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এছাড়া, তার নামে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলেও সেটি সিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি ‘অ্যানবি লজিস্টিকস লিমিটেড’-এর নামে নিবন্ধিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে তার বাবার নামে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
ব্যাংক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
সূত্র জানায়, আরজিনা খাতুনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবেও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ির নিকটাত্মীয়ের ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ) মাধ্যমে তিনি অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের পিয়ন মো. ইলিয়াস ও গাড়ি চালক শাহজাহান আক্তারকে ব্যবহার করে তিনি ঘুষের টাকা আদান-প্রদান করতেন।
দুর্নীতির এই চক্রে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে কর্মরত কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।
উল্লেখিত বিষয়গুলো দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, সঠিক তদন্ত হলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ও ভ্যাট বিভাগে চলমান দুর্নীতির একটি চিত্র স্পষ্ট হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

27 July 2026

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে দুর্নীতি: সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দাবি