ত্রিভুজ প্রেমের দন্দে কাতার প্রবাসী সিফাত হত্যা, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩
- আপডেট এর সময় : ০৭:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 15
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া এলাকার একটি বাসায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ও প্রেমিকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।
র্যাব বলছে, ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দে সিফাত উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহজাহানপুর র্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল ফায়েজুল আরেফীন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)।
এছাড়াও এই ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা তাদের প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহাকেও (২৩) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
লে. কর্ণেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সোমবার ভোর রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫ টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিফাত উল্লাহ একজন কাতার প্রবাসী। গত দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে চলে আসেন। তার সাথে নাফিজা শেখ নেহার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত সাজিদের সাথে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নেহার সাথে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না। গত (২৫ আগস্ট) নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারে, সিফাতের সাথে নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি জানার পর নেহার সাথে সাজিদের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
অপরদিকে একসাথে লেখাপড়ার সুবাদে গ্রেফতারকৃত আল আমিন হোসেন জয়ের সাথে নেহার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে একই এলাকার বড় ভাই এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে নেহার বাসায় বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, নেহা অনলাইন ব্যবসা করার জন্য মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় একটি রুম সাবলেট ভাড়া নিয়ে তার ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করতো। গতকাল রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে ওই বাসায় সিফাত মোটর সাইকেল নিয়ে নেহার সাথে দেখা করতে আসে। খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ আরও কয়েকজন নেহার বাসায় আসে। ওই সময়ে জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিলো। তারা ওই বাসায় ঢুকলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে ইয়াসিন ও রাজু আহত হয়। তখন তারা নিচে নেমে আসে। তাদের পিছন পিছন সিফাতও নিচে নেমে এসে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করে। তখন জয়ের সহযোগীরা সিফাতকে পিছন থেকে ইট ছুঁড়ে মারে। এতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় তার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে এবং অন্যরা তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে।
তিনি বলেন, পরে স্থানীয়রা সিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিফাতের পরিবার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।




















