০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে কানাডার কাছে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০২:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে কানাডার কাছে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং কৃষি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
রোহিঙ্গা সংকট ও স্থায়ী সমাধান

বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হচ্ছে মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন।
জ্বালানি ও কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতা

বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে—বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সম্ভাবনাময় অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা, যাতে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দেয়। এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কানাডা তাদের চলমান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।
কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা

কৃষিপণ্য (ডাল ও তৈলবীজ) উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কানাডার আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, এর মাধ্যমে সার-বীজ সরবরাহ সহজ হবে এবং সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা কার্যকরভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো যাবে। এ ধরনের ডেটাভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা

বিশ্বব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিগুলো একত্রিত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর সাথে যুক্ত করা সম্ভব হলে দেশের আরও ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যাবে। সরকার শুধু সামাজিক সুরক্ষাই নয়, বরং মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছে।
জলবায়ু অর্থায়ন ও পরিবেশগত উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেবে, যা থেকে বাংলাদেশও উপকৃত হবে। এছাড়া যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কানাডা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও সফর আমন্ত্রণ

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের কর্মদক্ষতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। বৈঠকে তিনি জানান, বর্তমানে দুই জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠক শেষে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণে জানান।

12 October 2026

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে কানাডার কাছে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে কানাডার কাছে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০২:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং কৃষি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
রোহিঙ্গা সংকট ও স্থায়ী সমাধান

বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হচ্ছে মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন।
জ্বালানি ও কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতা

বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে—বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সম্ভাবনাময় অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা, যাতে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দেয়। এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কানাডা তাদের চলমান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।
কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা

কৃষিপণ্য (ডাল ও তৈলবীজ) উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কানাডার আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, এর মাধ্যমে সার-বীজ সরবরাহ সহজ হবে এবং সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা কার্যকরভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো যাবে। এ ধরনের ডেটাভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা

বিশ্বব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিগুলো একত্রিত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর সাথে যুক্ত করা সম্ভব হলে দেশের আরও ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যাবে। সরকার শুধু সামাজিক সুরক্ষাই নয়, বরং মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছে।
জলবায়ু অর্থায়ন ও পরিবেশগত উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেবে, যা থেকে বাংলাদেশও উপকৃত হবে। এছাড়া যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কানাডা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও সফর আমন্ত্রণ

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের কর্মদক্ষতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। বৈঠকে তিনি জানান, বর্তমানে দুই জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠক শেষে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণে জানান।

12 October 2026

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে কানাডার কাছে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী