বিকল্প ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’
- আপডেট এর সময় : ০৩:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / 7
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ এখনো নিজস্ব স্থায়ী জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদিত ১০৬টি পদের বিপরীতে স্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কাজ ও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে বিকল্প উপায়ে। মূলত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আউটসোর্সিং কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের যৌথ সমন্বয়েই পরিচালিত হচ্ছে ঢাকার নতুন এই দর্শনীয় স্থানটির সার্বিক কার্যক্রম।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ও সেবাভিত্তিক ঘাটতি পূরণে আউটসোর্সিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ৮২ জন আউটসোর্সিং কর্মীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৬ জন কাজে যোগ দিয়েছেন এবং অবশিষ্ট ৩৬ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াও এখন শেষ ধাপে রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রেষণে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন স্কাউট সদস্য ও গবেষণা দলের স্বেচ্ছাসেবী নানা ধরনের সহায়তামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন।
উদ্বোধনের প্রারম্ভিক ধাপে জনবল সংকটের কারণে দর্শনার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং গ্যালারিগুলোতে চলাচলের শৃঙ্খলায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছিল। তবে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট রুটিন ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দর্শনার্থী সেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল করা হয়েছে। জাদুঘর এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দিন দিন এই স্মৃতি জাদুঘরটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও উপস্থিতি বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ৬ থেকে ৭ হাজার এবং শনিবার ৪ থেকে ৫ হাজার দর্শনার্থী এখানে আসেন। এমনকি সাধারণ কর্মদিবসগুলোতেও গড়ে প্রায় দুই হাজার মানুষের আগমন ঘটছে। ইতিহাসকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে আন্দোলনের বাস্তব চিত্র জানাতে অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের সাথে নিয়ে এখানে আসছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালক সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১০৬টি পদ অনুমোদিত হয়েছে এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুতই স্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন হলে এবং প্রদর্শিত নিদর্শনগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত ঐতিহাসিক পটভূমি যুক্ত করা সম্ভব হলে জাদুঘরটি আরও সমৃদ্ধ ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।



















