০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩২১ বছরের ঐতিহ্যের টানে বারঘরিয়ার বাইশপুতুল দুর্গামন্দিরে তাপসী দত্ত

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ১২:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7

৩২১ বছরের ঐতিহ্যের টানে বারঘরিয়ার বাইশপুতুল দুর্গামন্দিরে তাপসী দত্ত

পাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেছেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তাপসী দত্ত।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী তিথিতে তিনি ঐতিহাসিক এ মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজার আয়োজন, মন্দিরের সার্বিক পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।

প্রায় ৩২১ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ মন্দিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, ২২টি মূর্তির সমন্বয়ে নির্মিত ব্যতিক্রমী প্রতিমা। এ বিশেষ আয়োজন দেখতে প্রতিবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ছুটে আসেন।

মন্দির পরিদর্শনকালে তাপসী দত্ত বলেন, বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। মন্দিরটির উন্নয়ন এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তাপসী দত্ত চারটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান, আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে এ মন্দিরে বংশপরম্পরায় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। একসময় চৌডালা এলাকাকে কেন্দ্র করে এ পূজার আয়োজন করা হতো। জনশ্রুতি রয়েছে, একবার ভয়াবহ বন্যায় পূজার কাঠামো ভেসে বারঘরিয়া এলাকার নদীর ঘাটে এসে পৌঁছায়। পরে পূর্বপুরুষদের স্বপ্নাদেশের ভিত্তিতে ওই স্থানে পূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী এ দুর্গোৎসব।

পরিদর্শনকালে মন্দিরের সভাপতি প্রণব কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি পালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মন্দিরের ইতিহাস, পূজার বিশেষত্ব ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ট্রাস্টিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রাচীন এ ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এদিকে মহাষ্টমী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিচ্ছেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। মহাষ্টমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সন্ধিপূজাকে ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

দীর্ঘ ৩২১ বছরের ঐতিহ্য, ২২টি মূর্তির অনন্য সমন্বয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কারণে বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি ধরে রেখেছে।

20 October 2026

৩২১ বছরের ঐতিহ্যের টানে বারঘরিয়ার বাইশপুতুল দুর্গামন্দিরে তাপসী দত্ত

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

৩২১ বছরের ঐতিহ্যের টানে বারঘরিয়ার বাইশপুতুল দুর্গামন্দিরে তাপসী দত্ত

আপডেট এর সময় : ১২:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেছেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তাপসী দত্ত।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী তিথিতে তিনি ঐতিহাসিক এ মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজার আয়োজন, মন্দিরের সার্বিক পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।

প্রায় ৩২১ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ মন্দিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, ২২টি মূর্তির সমন্বয়ে নির্মিত ব্যতিক্রমী প্রতিমা। এ বিশেষ আয়োজন দেখতে প্রতিবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ছুটে আসেন।

মন্দির পরিদর্শনকালে তাপসী দত্ত বলেন, বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। মন্দিরটির উন্নয়ন এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তাপসী দত্ত চারটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান, আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে এ মন্দিরে বংশপরম্পরায় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। একসময় চৌডালা এলাকাকে কেন্দ্র করে এ পূজার আয়োজন করা হতো। জনশ্রুতি রয়েছে, একবার ভয়াবহ বন্যায় পূজার কাঠামো ভেসে বারঘরিয়া এলাকার নদীর ঘাটে এসে পৌঁছায়। পরে পূর্বপুরুষদের স্বপ্নাদেশের ভিত্তিতে ওই স্থানে পূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী এ দুর্গোৎসব।

পরিদর্শনকালে মন্দিরের সভাপতি প্রণব কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি পালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মন্দিরের ইতিহাস, পূজার বিশেষত্ব ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ট্রাস্টিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রাচীন এ ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এদিকে মহাষ্টমী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিচ্ছেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। মহাষ্টমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সন্ধিপূজাকে ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

দীর্ঘ ৩২১ বছরের ঐতিহ্য, ২২টি মূর্তির অনন্য সমন্বয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কারণে বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দির চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি ধরে রেখেছে।

20 October 2026

৩২১ বছরের ঐতিহ্যের টানে বারঘরিয়ার বাইশপুতুল দুর্গামন্দিরে তাপসী দত্ত