চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ফরিদুলের হাতে, তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পেলেও নেয়া হয়নি ব্যবস্থা
- আপডেট এর সময় : ০৪:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
- / 247
চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর পদে নিয়োজিত ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের দুর্নীতির ফিরিস্তি যেন শেষ হবার নয়। বন্দরে জাহাজ মেরামত, জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক জাহাজের বর্থিং প্রদান, কর্মচারীদের বদলি এবং বাসা প্রদানে অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত ২২ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী দোসর রিয়ার এডমিরাল সোহায়েল এর সহযোগিতায় পুনরায় ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে আসেন তিনি। চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পরপরই অঢেল সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলে এই কর্মকর্তা। নিম্ন এই কর্মকর্তার দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো।
গত ২৫/০৯/২০১৩ তারিখে ইন্দোনেশিয়ান জাহাজ এমভি গ্লেডিসকে জ্যেষ্ঠ পাইলটদের সুপারিশ উপেক্ষা করে ক্যাপ্টেন ফরিদের একক সিদ্ধান্তে বহি:নঙ্গর থেকে জাহাজটি বন্দরে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। এতে জাহাজটি গ্রাউন্ডেড হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন সদস্য (এ এন্ড পি) নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব-কে সভাপতি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ফরিদুল আলমকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করেন।
২০১১ সালে ভিটিএমএস প্রকল্পে মন্ত্রণালয় কর্তৃক ডিপিপি সংশোধন ছাড়া এবং নিজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে ২,০৮,৫৫.৭৭০ টাকার প্রাককলন তৈরি করেন তিনি এবং কাজ শেষ হবার ৩ মাস আগে বিল পরিশোধ করে দেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি তাকে স্বেচ্ছাচারী কর্মকর্তা আখ্যা দিয়ে দ্রুত অপসারণ করার সুপারিশ করে। এই ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। প্রায় এক বছর পর তাকে পায়রা বন্দরে সংযুক্ত করে বদলি করা হয়।
ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে চট্টগ্রাম বন্দরের শত শত কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তির মালিক হবার অভিযোগ দায়ের করা হয়। দুদক ১৭/০৮/২০২৩ তারিখে ০০.০১.১৫০০.৬২৬.০১.১৫১.২৩.৩৬৫৮ স্মারকে তার সম্পর্কে তথ্য চায়।
চবক কর্তৃক ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজের অনুমোদন থাকলেও গত ১১ মে ২০১৪ তারিখ ১৯১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.৫ মিটার ড্রাফটের MV STAR OF LUCK (Flag: Panama) নামক একটি জাহাজ বন্দরের এনসিটি-২ জেটিতে আনেন এবং এতে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। উক্ত দুর্ঘটনার ফলে এনসিটি-৩ ও এনসিটি-৪ জেটির অনেকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উক্ত সময়ে প্রায় ১ মাস ২ দিনের জন্য জেটি বন্ধ থাকে। ফলে তৎকালীন প্রায় ৬৪,০০০ ডলার (৫১,২০,০০০,০০ টাকা) এর সমপরিমাণ অর্থ উপার্জন হতে বঞ্চিত হয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এসব অভিযোগের পরও কেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কোন অদৃশ্য শক্তির মদদে দুর্নীতির এই বরপুত্র রয়েছেন বহাল তবিয়তে?


















